Showing posts with label মুসলিম জাতি. Show all posts
Showing posts with label মুসলিম জাতি. Show all posts

আইএসআইএস এবং ঐক্যবদ্ধ বাতিল

হযরত আলী (রাঃ) এবং হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর মধ্যে চলমান যুদ্ধে উস্কানি দানের উদ্দেশ্যে রোমান সম্রাট সিজার মুয়াবিয়া (রাঃ) এর পক্ষে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিলেন। জবাবে মুয়াবিয়া (রাঃ) লিখে পাঠালেন, “হে রোমের কুকুর, যদি তোর সৈন্যবাহিনী এক কদমও মুসলিম সীমান্তের দিকে এগোয়, জেনে রাখিস আলীর (রা) বাহিনীর পক্ষে প্রথম যে ব্যক্তি শহীদ হবে, সে আমি ছাড়া আর কেউ না”।

ইরাকে মার্কিন স্বার্থ এবং সিরিয়াতে স্বৈরাচারী বাশার সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছে আইএসআইএস নামক সংগঠন। শিয়াদের প্রতি এই সংগঠনটির নৃশংসতা এবং অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের সাথে গায়ে পরে যুদ্ধ লাগানোর জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত এই সংগঠনটি। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকটি লেখাতে আমি আইএসআইএস এর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছি।

ইতোমধ্যেই ইরাকের নাস্তিক-কমিউনিস্ট কুর্দিরা এবং ইয়াযিদি খৃস্টান সহ শিয়ারা ঘুরে দাড়িয়েছে। মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বে চলছে আইএসআইএস এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত যুদ্ধ। ইতোমধ্যে সৌদি সরকার আইএসআইএস ও আল কায়দা বিরোধী যুদ্ধে জাতিসংঘকে ১০০মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি গ্রান্ড মুফতি ঘোষণা দিয়েছেন, আল কায়দা ও আইএসআইএস হচ্ছে ইসলামের এক নম্বর দুশমন।

এমনিতে আমি আইএসআইএসে'র কট্টর সমালোচক, কিন্তু উপরোক্ত খবরগুলো পড়ে এখন আমি অন্তরের অন্তস্থল হতে আইএসআইএস’র বিজয় কামনা করছি। সারাবিশ্বের জিহাদ পাগল মুসলিমরা পরিবার স্ত্রী-সন্তানের মায়া ত্যাগ করে ছুটে গিয়েছেন ইরাক-সিরিয়ার জিহাদের ময়দানে, একটাই তাদের উদ্দেশ্য ‘হয় আল্লাহর হুকুমত নয়তো শাহাদাত’। আমি ব্যক্তিগত ভাবে আইএসআইএস এর কর্মপদ্ধতীকে অপছন্দ করি কিন্তু তাদের নিয়্যতের ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

এই সেই সৌদি গ্রান্ড মুফতি যিনি ফতোয়া দিয়েছিলেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিশাপ দেয়া যাবেনা, এই সেই বাতিলপন্থী আলেম যারা বলে ফিলিস্তিনের পক্ষে মিছিল সমাবেশ করা অর্থহীন। আজ তারা ফতোয়া দিচ্ছে “আল কায়দা, আইএসআইএস ইসলামের দুশমন”। আর সৌদি আরবের মার্কিন তাবেদার রাজ পরিবার হচ্ছে ইসলামের বড় খাদেম। এই গ্রান্ড মুফতির চাইতে বড় শয়তানতো আমি আর দেখছিনা। আর মুসলিমরা সব সময় শয়তানের উল্টো দিকেই চলে।

ফিলিস্তিনে হাজার হাজার মুসলিমকে ইহুদীরা হত্যা করলো, আফগানিস্থানকে কার্পেট বোমা মেরে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলো মার্কিন খৃস্টানরা। চীনে উইঘুর মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে, প্রকাশ্য নামাজ পড়তে দেয়া হচ্ছেনা, এমনকি রোজা রাখায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নাস্তিক সরকার। রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্মম গণহত্যায় মেতে উঠেছে বৌদ্ধরা। এতো কিছু দেখেও নিশ্চুপ সৌদি সরকার, বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ কিংবা মুক্তিকামী মুসলিমদের পক্ষে তারা কোনো প্রকার আর্থিক সামরিক সহায়তা প্রদান করেনাই।
অথচ সেই সৌদি সরকারই মুক্তিকামী উগ্রপন্থী বিক্ষুব্ধ মুসলিমদের দমনে অনুদান সরবরাহ করছে জাতিসংঘকে।

একদিকে আমেরিকা মুসলিম হত্যা করার জন্য ইসরাইলকে দশ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেয়, অন্যদিকে সৌদি সরকার আল কায়দা-আইএসআইএস'কে দমনে জাতিসংঘকে ১০০মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান প্রদান করে। ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী এই যুদ্ধে এক হয়েছে কাফের এবং মুনাফিক।

ইরাকে আমেরিকার এবং তাদের তাবেদার সরকার, নাস্তিক কুর্দি এবং ইয়াযিদী খৃস্টানরা একজোট হয়েছে মুসলিম হত্যায়। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে আইএসআইএস। রসুনের কোয়াগুলো একই বৃন্তে এসে যক্ত হয়েছে।
আইএসআইএসের সাথে আমার কর্মপদ্ধতী কেন্দ্রীক দ্বন্ধ থাকতে পারে, কিন্তু যখন দেখি মার্কিন বাহিনী, ইয়াযিদী খৃস্টান এবং কুর্দি নাস্তিকদের হাতে আইএসআইএস এর মুসলিমরা নিহত হচ্ছে তখন সে দৃশ্য সহ্য করা কঠিন হয়ে যায়। মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে পত পার্থক্য থাকলে সেটা নিজেদেরকেই মিটিয়ে ফেলতে হবে, যে ব্যক্তি ইহুদী-খৃস্টানদের সহায়তায় নিজের মুসলিম প্রতিপক্ষকে হত্যা করে সে ব্যক্তি কিভাবে মুসলিম হতে পারে?

আমেরিকার পক্ষে গোয়েন্দা কার্যক্রমের অভিযোগে মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলেকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আইএসআইএস। জেমস ফলের মুক্তির বিনিময় হিসেবে ডাঃ আফিয়া সিদ্দিকীর মুক্তি দাবী করেছিলো তারা, কিন্তু মার্কিন সরকার আইএসআইএস এর দাবী মেনে নেয় নাই। ফলশ্রুতিতে তাকে মরতে হলো।

আজকে জেমস ফলের জন্য আমরা চোখের পানি নাকের পানি এক করে ফেলছি। একজন সাংবাদিকের জন্য আমাদের হৃদয়ে প্রচন্ড কষ্ট অনুভব করছি। এর কারণ হচ্ছে, মার্কিন মিডিয়া আমাদেরকে কষ্ট অনুভব করতে বলছে তাই আমরা জেমস ফলের জন্য কষ্ট অনুভব করছি, অন্যদিকে মার্কিন সামরিক সহায়তায় ইসরাইলের তান্ডবে ফিলিস্তিনে যেসব সাংবাদিক নিহত হয়েছে তাদের জন্য আমাদের কোনো কষ্ট নেই। মিশরে সিসি বিরোধী আন্দোলনে সেনাবাহিনীর গুলিতে যেসব সাংবাদিক নিহত হয়েছে তাদের জন্য আমরা কষ্ট অনুভব করিনা, কারণ মার্কিন মিডিয়া আমাদের বলে দিয়েছে, মিশর-ফিলিস্তিনের সাংবাদিকদের জন্য কেঁদে লাভ নেই!

সর্বশেষ কথা হচ্ছে, যে সংগঠনটি ডঃ আফিয়া সিদ্দিকির মুক্তি চেয়ে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যে সংগঠনটি ইরাকের মাটি হতে কবর পুজা, মাজার পুজা উচ্ছেদ করে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা করেছে, যে সংগঠনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ইহুদী, খৃস্টান, নাস্তিক, মুনাফিক, স্বৈরাচার এবং সাম্রাজ্যবাদীরা সে সংগঠনের সাথে আমার কর্মপদ্ধতীগত মত পার্থক্য থাকতে পারে তাই বলে সেই সংগঠনের মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির মুনাফিককে কখনো সমর্থন করা যায়না। কাফেরের হাতে একজন মুসলিমের রক্ত ঝড়বে এই দৃশ্য সহ্য করা যায়না।

আইএসআইএস এর বিজয় কামনা করে এবং রোমান সম্রাট সিজারের প্রতি হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর বক্তব্যটি স্মরণ করেই লেখাটি শেষ করছি।

লেখাঃ আইএসআইএস এবং ঐক্যবদ্ধ বাতিল
© শামীম রেজা
২৩/০৮/২০১৪

Post Comment

রাজনীতি করার কি প্রয়োজন?

সংসদ ভবন এলাকাতে গিয়েছিলাম, বিশাল উন্মুক্ত এলাকা জুড়ে নিরাপদ প্রেমের ব্যবস্থা। ঢাকা শহরের প্রতিটি পর্যটন এরিয়াতে একই চিত্র। শুধুমাত্র ঢাকা নয় এই চিত্র বাংলাদেশের প্রতিটি শহর এমনকি গ্রামেরও।
স্কুল-কলেজের ছেলে মেয়েরা প্রকাশ্য অনৈতিক কাজে জড়াচ্ছে আর পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে।

এক বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম, পার্ক এড়িয়াতে ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়লে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। ছিনতাইকারী বারবার বলছিলো “স্যার, আমরা ছিনতাইকারী নই, এখানে এরা প্রেম করতে এসেছে, আমরা বাঁধা দিয়েছি”। পুলিশ সুন্দর জবাব দিয়েছিলো, পার্কগুলাতো প্রেমের জন্যই বানানো হয়েছে, এখানে প্রেম করবেনাতো কোথায় করবে?

আজ আবদ্ধ ঘরে কুরআনের আলোচনা করা যায়না, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলা যায়না। অথচ প্রকাশ্য উন্মুক্ত স্থানে ব্যভিচার করা মামুলী ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। গোপন বৈঠকের অজুহাতে, নাশকতার পরিকল্পনার মিথ্যা অজুহাত দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় দ্বীনি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদেরকে, আর অনৈতিক কাজের জন্য দেয়া হয় রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তা।

নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় কোরানের মাহমিল, অথচ দ্বিস্তর-তিনস্তর এর নিরাপত্তা দিয়ে আয়োজন করা হয় ব্যান্ডসংগীত, যাত্রা গানের আসর। অশ্লীল ভিডিও দিয়ে ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক পূর্ণ থাকলে প্রব্লেম নেই, এগুলো স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু সেই ল্যাপটপে যদি ইসলামী বই পাওয়া যায় তবে সেটা হয়ে যায় জিহাদী বই, জঙ্গি বই। জিহাদী বইয়ের অজুহাতে গ্রেপ্তার করা হয় জামিন অযোগ্য ধারার মামলায়।

প্রেমের টানে বারবার ঘর ছাড়া এক মেয়ে বলেছিলো, ছোট বেলা থেকেই দেখতাম সবাই মোবাইলে প্রেম করে, আমারও করতে ইচ্ছে হতো। সেই থেকে শুরু, যখন হাতে মোবাইল এলো তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নাই। এই মেয়েটি কিন্তু প্রেমের জন্য প্রেম করেনাই, সবাই করে তাই তারও করতে ইচ্ছে হয়েছে।
আজকে যখন ছোট ছোট বাচ্চারা পার্ক এবং রাস্তার পাশে যুগলবন্দী হয়ে বসে থাকার দৃশ্য দেখে তখন তাদেরও ইচ্ছে হয় বড় হয়ে তারাও এমন করে হাত ধরা ধরি করে রাস্তার পাশে বসে থাকবে। বাচ্চারা দেখে শিখে।

না শুধুমাত্র বাচ্চারা নয়, কখনো কখনো বড়রাও দেখে শিখে, সেদিন আহসান মঞ্জিলে গিয়েছিলাম, লম্বা দাড়ি এবং টুপি পড়া এক যুবক বিশাল যুব্বা পড়া অবস্থায় এক হিজাবী-নিকাবী আপুর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় বসে আছে। পোশাক দেখে তাদের সম্পর্কে কু ধারনা করলামনা, ধারনা করলাম তারা স্বামী-স্ত্রী, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কাকে দেখানোর জন্য তারা প্রকাশ্যে এভাবে রোমান্টিকতা প্রদর্শণ করছেন?!
এটাকেই বলে দেখে শেখা। তারা দেখেছেন, শিখেছেন, এখন সবাইকে দেখাচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায়, পৃষ্ঠপোষকতায় যদি অশ্লীলতা-ব্যভিচারকে প্রচার করা হয়, আর দ্বীনি মাহফিলকে, দ্বীনি আলোচনাকে নাশকতার আশংকায় বন্ধ করে দেয়া হয় তবে শুধুমাত্র আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুরা অশ্লীলতা শিখবেনা, আমরা বড়রাও শিখবো, চর্চা করবো, প্রচার করবো।

তারপরেও এক শ্রেণীর মানুষ বলবেন, ইসলামী আন্দোলন করার কি প্রয়োজন? কুরআন পড়বা, নামাজ পড়বা, রোজা রাখবা তাহলেই ইসলাম পালন হয়ে যাবে। রাজনীতি করবে শয়তানেরা, ভালো মানুষরা মসজিদে বসে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করবে।
ইসলামপন্থীদের সংসদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, সংসদে যাবে শয়তানেরা তারা সংসদে বসে ইসলাম বিরোধী আইন বানাবে আর সেই আইনের মাধ্যমে মুসলমানদের শাসন করা হবে।
এই শ্রেনীর মানুষেরা শয়তানের চাইতে কোনো অংশে কম ক্ষতিকর নয়।

লেখাঃ রাজনীতি করার কি প্রয়োজন?
© শামীম রেজা
১২/০৮/২০১৪

Post Comment

অর্থনৈতিক যুদ্ধ


এমনিতে আমি নিরামিষ টাইপের মানুষ, চা, কফি কিংবা কোল্ড ড্রিঙ্কস এর প্রতি বিন্দুমাত্র আসক্তি নেই। কিন্তু বন্ধুদের আড্ডায় এক কাপ চা কিংবা প্রচন্ড গরমে খানিকটা কোল্ড ড্রিঙ্কসতো পান করা যেতেই পারে।

গতকালও ছিলো তেমন একটি দিন, একেতো দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত তাঁর উপর প্রচন্ড গরম। ইফতারির জন্য ভালো একটি ড্রিঙ্কস খুজছিলাম, টাইগার কিংবা স্পীড নিলামনা, ধারণা করছি এগুলোতে এ্যালকোহলের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত, মাত্রাতিরিক্ত এ্যালকোহলতো হালালের প্রশ্নই ওঠেনা। কোকাকোলা, পেপসি পান করবোনা এগুলো ইহুদী পণ্য বলে, এসব বোতল পূর্ণ হয়ে আছে ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্তে।
বেছে বেছে শেষ পর্যন্ত স্প্রাইটের বোতলটাই হাতে তুলে নিলাম, কিন্তু দূর্ভাগ্য খালি বোতল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে লেভেলের একটি যায়গায় চোখ আটকে গেলো। ছোট্ট করে লেখা আছে “কোকাকোলা রেজিস্টার্ড পণ্য”! মনে পড়ে গেলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কথা, মনে পড়ে গেলো বাংলাদেশের মিডিয়ার কথা।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি দেশের ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র পণ্য বিক্রয় করেনা, একই সাথে তারা নিজস্ব রাজনীতি এবং সাংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয় দেশে দেশে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রবেশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বিশ্বের একমাত্র মুসলিম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ যে দেশের সীমান্তের সাথে অন্য কোনো মুসলিম দেশের সীমান্ত নেই। আরবের মুসলিম বণিকরা এদেশে এসেছিলেন বাণিজ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে, এবং বাণিজ্যের সাথে সাথে তারা পৌছে দিয়েছিলেন ইসলামের সুমহান আদর্শের বার্তা।

ব্রিটিশদের “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী” এদেশে এসেছিলো বাণিজ্য করার জন্য। বাণিজ্য করার ফাঁকে ফাঁকে তারা বাস্তবায়ন করেছিলো রাজনৈতিক এজেন্ডা, কিনে নিয়েছিলো নবাব সিরাজের সেনাপতি সহ অসংখ্য প্রভাবশালী ব্যক্তিকে, ফলশ্রুতিতে পুরো দেশটাই চলে গিয়েছিলো তাদের হাতে। এদেশের জনসাধারণ পরিণত হয়েছিলো ব্রিটিশদের গোলামে, সূদীর্ঘ সেই গোলামির ইতিহাস।

আমরা আন্দালিব পার্থের দেয়া বক্তব্যের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ইন্ডিয়ান কোম্পানী এয়ারটেল কিভাবে শতকোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে কিনে নিয়েছিলো ওয়ারিদ টেলিকমকে। কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে মিডিয়ায় হৈ চৈ হয়নি, কেনো হয়নি সেটা পরবর্তীতে আলোচনা করবো। শাহবাগ আন্দোলনের সময় মিডিয়াতে তুমুল হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিলো ইসলামী ব্যাংক জাতীয়করণ কিংবা বন্ধ করে দেয়ার দাবিতে, সেই দাবী এখন স্তিমিত হয়ে গেছে। যেসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান তখন ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মঞ্চ কাপিয়েছিলো তারা এখন ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে সাফাই গাইছে। বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানী গুলোর দূর্ণীতির বিরুদ্ধে মিডিয়াতে কোনো নিউজ হয়না, তারা কি ফেরেশতা? তারা কি ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেনা? তাহলে মিডিয়াতে নিউজ হচ্ছেনা কেনো?
আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি একদিকে পুরো বিশ্বের মুসলিম-অমুসলিম সহ দল মত নির্বিশেষ সবাই ইহুদী বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ছে, অন্যদিকে ঠিক তখনি আমাদের দেশের মিডিয়া এই ইস্যুতে নির্বিকার হয়ে বসে আছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়া ইহুদীদের পক্ষ নিয়ে নিউজ প্রকাশ করছে। এর কারণ কি, বাংলাদেশের সব মিডিয়া মালিকরা কি ইহুদী হয়ে গেছে? উত্তর যদি হয় ‘না’, তাহলে মিডিয়া কেনো ইহুদীদের পক্ষাবলম্বন করছে?

একটি নিউজ পড়েছিলাম, কোকাকোলা পেপসি সহ অন্যান্য কোম্পানির পণ্যের উৎপাদন খরচের তুলনায় বিজ্ঞাপন খরচ বেশি। আজকে যদি বাজার করার জন্য পণ্যের তালিকা করেন তবে তালিকার ৭০% পণ্যই থাকবে ইহুদী নিয়ন্ত্রিত কোম্পানীর। ব্যবসা এবং সুদ এই দুইটা জিনিস ইহুদীরা অনেক ভালো বুঝে। ইহুদীদের এই বিরাট বিশাল ব্যবসার বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করা হয় মিডিয়াকে, প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাজেট। যে মিডিয়া যত বেশি ইহুদী তোষণ করতে পারবে সে মিডিয়া তত বেশি বিজ্ঞাপন বাজেট বরাদ্দ পাবে। সুতরাং মিডিয়াগুলো কেনো শুধু শুধু বিনে পয়সায় ইহুদীদের বিরুদ্ধে নিউজ করতে যাবে, যেখানে ইহুদীদের পক্ষে লিখলে পাচ্ছে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন।
একই কথা প্রযোজ্য টেলিকম সেক্টরের দূর্ণীতির প্রসঙ্গে, মোবাইল কোম্পানি গুলো কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে মিডিয়ার মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে। আসছি ইসলামী ব্যংকের প্রসঙ্গে, হঠাৎ করেই বাতিলপন্থীদের কাছে ইসলামী ব্যাংক ভালো হয়ে গেলো কেনো? কারণ ঐ একটাই সেটা হচ্ছে ‘বিজ্ঞাপন’। মিডিয়ার পর্দায় ইসলামী ব্যাংকের বিশাল বিশাল বিজ্ঞাপন।

যে কথা বলছিলাম, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র পণ্য বিক্রয় করেনা, একই সাথে তারা নিজেদের রাজনীতি এবং সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেয় দেশে দেশে। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি কিভাবে ইহুদী পণ্যের কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের লোভে ফিলিস্তিনের গণহত্যা ইস্যুতে আমাদের মিডিয়াগুলো পঙ্গু হয়ে বসে আছে। কিভাবে ভারতীয় কোম্পানীর বিজ্ঞাপনের লোভে প্রথম আলো সহ অন্যান্য মিডিয়া ফেলানীদের নিয়ে লীড নিউজ করেনা। জাতীয় স্বার্থের চাইতে ভারতের এবং ইহুদীদের স্বার্থকেই আমাদের মিডিয়া প্রাধান্য দিচ্ছে।

আমরা দেখতে পাচ্ছি, মিডিয়ার এই এক চোখা নীতির পেছনের কারণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিকও বটে। আজকে ইহুদীরা ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে তাদের অর্থনৈতিক শক্তিতে, ব্যবসায়ীক শক্তিতে। তাদের বিজ্ঞাপন বাজেটই নিয়ন্ত্রণ করছে গোটা বিশ্বের মিডিয়াকে। মিডিয়া আজ তাদের চাহিদা মোতাবেক নিউজ তৈরী করছে।

আমরা চাইলেই রাতারাতি ইহুদী প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে শক্তিশালী মুসলিম প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবোনা, যেটা পারবো সেটা হচ্ছে ইহুদী পণ্য বয়কট করে তাদের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে। ইতোমধ্যেই ইসরাইলী অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন বিশ্বব্যাপী ইহুদী পণ্য বয়কটের কারণে তাদের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।
নিচে কিছু বহুল ব্যবহৃত ইহুদী পণ্যের নাম উল্লেখ করা হলো। আসুন ইসরাইলী পণ্য বর্জন করে বিকল্প পণ্য গ্রহণ করে ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসি। আমার টাকায় কেনা বুলেটে জীবন দিতে হবেনা আর কোনো মুসলিম ভাইকে।

১। বাটা ২। ইউনিলিভার ৩। নেসলে ৪। ম্যাকডোনাল্ডস ৫। পেপসি ৬। কোকাকোলা

#SaveGaza #SupportPalestine #StopGenocide #SupportHamas

লেখাঃ অর্থনৈতিক যুদ্ধ
© শামীম রেজা
২৬/০৭/২০১৪

Post Comment

পথভ্রষ্ট জাতি

বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলো আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে চাঁদা তুলেছে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা। পাশের এলাকাতেও শুনলাম গরু কেনা হয়েছে। বিরানী রান্না হবে, উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে, বিরানীর মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর চারিদিক।

ঠিক একই মূহুর্তে ফিলিস্তিনের জীর্ণ কুটিরে অভুক্ত পিতৃহীন শিশু ভয়ে আতঙ্কে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে জানতে চাইছে “মা, আজকে রাতেই কি আমরা মরে যাবো?” ইসরাইলি বিমান থেকে ফেলা হচ্ছে ফসফসার বোমা, গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িঘর। হাসপাতাল খালি করে দেয়ার নোটিশ জারি করা হয়েছে, নইলে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হবে। চিকিৎসা নিতে দেয়া হবেনা আহত-মূমুর্ষু ফিলিস্তিনিদের। বর্বর ইহুদীরা পাহাড়ের উপর চেয়ার পেতে বসে ইসরাইলি বিমানের বর্বর বোমা হামলার ফলে প্রজ্বলিত আগুনের দৃশ্য উপভোগ করছে।

যে ছেলেগুলো আর্জেন্টিনা কিংবা জার্মানির জন্য এতো বিশাল বিপুল আয়োজন করেছে সেই ছেলেগুলো মুসলিম, আবার যে শিশুগুলো ফিলিস্তিনে নিহত হচ্ছে সেই পরিবারটিও মুসলিম। যে ছোট্ট শিশুটি ইসরাইলের বিমানের গর্জন শুনে ভয়ে আতঙ্কে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরছে সেই শিশুটিও মুসলিম।

এক আহত ফিলিস্তিনি শিশুর কথা শুনেছিলাম যে কান্নারত অবস্থায় বলছিলো “আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো”। এই শিশুটি যদি সত্যি সত্যিই আল্লাহকে সব কিছু বলে দেয়, তবে সে কি বলবে? ইহুদীদের বর্বরতার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে অভিযোগ জানাবে?
আমারতো তা মনে হয়না, আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এই শিশুটি তার প্রভুর নিকট যখন অভিযোগ জানাবে তখন বলবে, “হে রহমানুর রহিম, যখন ইসরাইলি সৈন্যরা আমাদের উপর বোমা নিক্ষপ করছিলো, যখন তারা আমাদের বাড়িগুলো গুড়িয়ে দিচ্ছিলো, যখন তারা আমাদেরকে হত্যা করছিলো, ঠিক তখনি বিশ্বের অপর প্রান্তে আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা বিশ্বকাপ খেলার উন্মাদনায় মেতে ছিল, তারা ঢোল-বাদ্য সহকারে বিরানীর উৎসব করছিলো, তুমি এর বিচার করো মাবুদ”!

যে চল্লিশ হাজার টাকা ব্যয় করে বিরানীর উৎসব করা হোল, যে গরুটি জবাই করে ঢোল পিটিয়ে সাময়ীক উত্তেজনায় একটি রাত পার করা হলো সে টাকা দিয়ে একটি মুসলিম পরিবারের দারিদ্র বিমোচন করা সম্ভব হতো।
একটি অভাবী পরিবারকে রিক্সা কিনে দেয়া যেতো, একজন নারীকে সেলাই মেশিন কিনে দেয়া যেতো। অথবা সেই গরুটি কোন একটি দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র বিমোচনের অবলম্বন হতে পারতো।

এক ব্যক্তি বলছিলো, আমি ঘুষ খাইনা, আসলে তাকে ঘুষ দেয়াই হয়না সে খাবে কি করে। জঙ্গলে গিয়ে বৈরাগী জীবন যাপন করে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ। কিন্তু লোকালয়ে পাপাচারে পরিপূর্ণ সমাজে বসবাস করেও নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাই হচ্ছে তাকওয়ার পরিচয়।
ফুটবল বিশ্বকাপ ঝড়ে আক্রান্ত জাতি নিজের ভাই হত্যার সময়েও মেতে ছিল বিপুল উল্লাসে। গতকাল বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হয়েছে, আজকে থেকে হয়তো অনেক অনলাইন এক্টিভিস্ট ফিলিস্তিনের পক্ষে কী-বোর্ড ধারণ করবেন, তারা আর ফুটবল নিয়ে মেতে থাকবেননা, তারা ভালো হয়ে যাবেন। ভালো না হয়ে উপায় আছে! বিশ্বকাপতো শেষ হয়ে গেছে।

সময় হয়েছে আত্মপর্যালোচনার, আমরা যে নিজেদের মুসলিম দাবী করি, আমরা যে নিজদের ইসলামী আন্দোলনের কর্মী দাবী করি, আমরা যে নিজেদেরকে রাসূলের সৈনিক দাবী করি, আমরা আমাদের দাবীতে কতটা সৎ?

লেখাঃ পথভ্রষ্ট জাতি
© শামীম রেজা
১৪/০৭/২০১৪

Post Comment