ছাত্রশিবির আমাকে মুসলিম বানিয়েছে।


এক
তখন ক্লাস ফাইব কি সিক্সে পড়ি, শিবির আয়োজিত ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় দাওয়াত দেয়া হলো।
প্রশ্ন করা হলো বিশ্ব ইতিহাসে কয়েকজন মহাজ্ঞানী ব্যাক্তির নাম বলো।
ঝটপট উত্তর দিলাম, সক্রেটিস। টিভি দেখে শিখেছিলাম সক্রেটিস অনেক জ্ঞানী।
দায়ীত্বশিল আমার উত্তরটি গ্রহণ করলেন, সাথে ছোট্ট একটা কথা বললেন যেটা আজো মনে গেথে আছে। তিনি বলেছিলেন, “কয়েকজন নবী-রাসূলের নাম বলে দিলেও হতো, নবী-রাসূলদের চাইতে উত্তম জ্ঞানী আর কে আছে”।
শিবির আমাকে জানালো আমাদের নবী-রাসূলদের মর্যাদা ওই সব দার্শনিকের চাইতেও হাজার গুনে বেশি, যেটা আমাদের পাঠ্যপুস্তক শিখাতে পারেনি।

দুই
একটা জনপ্রিয় গান ছিলো সবার মুখে মুখে,
“আমি নই মুসলিম, আমি নই হিন্দু, আমি নই বৌদ্ধ, আমি নই খৃস্টান।
আমার পরিচয় বাংলাদেশের আমি এক বাঙালী”।
ছাত্রশিবিরের প্রগ্রামে গিয়েছিলাম, সেখানে সন্ধান পেলাম নতুন এক গানের, গর্বে বুকটা ফুলে উঠলো।
“মুসলিম আমি, সংগ্রামী আমি, আমি চির রণবীর।
আল্লাহকে ছাড়া কাউকে মানিনা নাড়ায়ে তাকবীর নারায়ে তাকবীর”।
ছাত্রশিবির আমাকে শেখালো, আমার প্রথম এবং শেষ পরিচয় আমি একজন মুসলিম।

তিন
ছোট বেলা হতেই গল্পের বইয়ের প্রতি ছিলো তীব্র আকর্ষণ। নিয়মিত কিশোর তারোকালোক পত্রিকা কিনতাম। সেখানে বিভিন্ন শিশু মডেলের সাক্ষাৎকার নেয়া হতো। ওই সব সাক্ষাৎকার হতে শিখেছি যখন প্রশ্ন করা হয় তোমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব কে? তখন উত্তর দিতে হয়, আমার বাবা আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব! অথবা রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের নামও বলতো কেউ কেউ।
জীবনের প্রথম এবং শেষ উদ্দেশ্য নাম কামানো, স্টার হওয়া!
শিবির আমার হাতে তুলে দিলো, কিশোর কন্ঠ। সাহিত্যের এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পেলাম, সন্ধান পেলাম আলোর পথের।
কিশোর কন্ঠের মাধ্যমে শিখলাম, আমাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব হওয়া উচিত হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)। কিশোর কন্ঠে আমাদের শেখালো আমাদের জীবনের প্রথম এবং শেষ চাওয়া হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। পড়লাম বদর,ওহুদ, খন্দকের যুদ্ধে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিভাবে মুমিন বান্দা বিলিয়ে দিচ্ছে জীবন।

চার
সিলেট ভ্রমনে গিয়েছিলাম সংগঠনের চারজন ভাই, সিলেট শহর, জাফলং ঘুরে গেলাম মাধবকুন্ড ঝর্ণা দেখতে। ঝর্না দেখে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা, মূল সড়কের পাশেই একটা মসজিদে মাগরিব আদায় করলাম। নামাজ শেষে বেরিয়ে দেখি একজন ভাই দাড়িয়ে আছেন, সালাম দিয়ে বললেন, আমি শিবিরের থানা সভাপতি, আপনারা শিবিরের কি?
গম্ভীর মুখে জবাব দিলাম, আমাদের দেখে কি শিবির শিবির মনে হয়? আমরাতো শিবির করিনা।
তিনি নাছোর বান্দা, না না আপনারা অবশ্যই শিবির করেন, বেড়াতে এসে নামাজ পড়ছে, শিবিরের ছেলে ছাড়া এমনটা ভাবাই যায়না! ঝটপট বলে ফেলেন কার মান কি?
শেষে হাসতে হাসতে সবার পরিচয় দিলাম, আমরা চারজনই সাথী ছিলাম।
আপ্যায়ন কাকে বলে, কতপ্রকার ও কিকি তারা সেদিন দেখিয়ে দিলেন। পরের দিনটা তাদের সাথে থাকার জন্য সেকি রিকোয়েস্ট! কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা ট্রেনের রিটার্ণ টিকেট কেটে ফেলেছিলাম, তাই ফিরে আসতে হলো।
শিবির আমাদের শিখিয়েছে ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ।

উদাহরণ আরো দেয়া যেতো, তবে লেখা বড় হয়ে যাওয়ার ভয়ে বাদ দিলাম।
সর্বশেষ একটি প্রশ্ন, আপনার সন্তানকে শিবিরে ভর্তি করেছেনতো?

২২আগস্ট২০১৩

Post Comment

জেল জুলুম আসবে জেনেই এই পথের পথিক হয়েছি।

facebook link ·

ভাই, ইসলামী আন্দোলনে যেদিন থেকে সক্রিয় হয়েছে সেদিন থেকেই জানতাম এই পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, জেল জুলুম নির্যাতন সহ্য করেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে চিরকালই বাতিল শক্তির মোকাবেলা করে মুজাহিদরা তাদের উপর অর্পিত দায়ীত্ব পালন করেছে। আর পূর্নাঙ্গ রাজনীতিবীদ বা বড় রাজনীতিবীদ হওয়ার কোনো ইচ্ছা কখনো ছিলোনা এবং এখনো ণেই, রাজনীতিবীদ হওয়ার জন্য রাজনীতি করছিনা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসলামী আন্দোলন করছি।
আমরা হরতাল আহ্বান করি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, আল্লাহ দ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সর্বোচ্চ হাতিয়ার হিসেবে হরতালের বিকল্প এখনো গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আবিস্কার হয়নাই। যারা এই ন্যায্য প্রতিবাদে সমর্থন জানাচ্ছে তারা হরতাল পালন করছে। আর যারা হরতাল পালন করছেনা তারা এই দাবীর বিরোধী বলেই আমরা ধরে নিচ্ছি, তারা জালিমের পক্ষের শক্তি, তাদের প্রতিহত করা আমাদের নৈতিক দায়ীত্ব।বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ হরতাল আহ্বান করেছে কোন দল আমাকে বলতে পারেন? হরতালে মানুষ হত্যার সর্বোচ্চ নজীর কোন দল স্থাপন করেছে বলতে পারেন?

রগ কারা কাটে, চাপা
তী দিয়ে কুপিয়ে মানুষ হত্যা করছে কারা? বোমাবাজি অস্ত্রবাজী কারা করছে? পত্রিকা পড়েন? টিভি দেখেন? নাকি অন্ধ ভাবে আওয়ামী টিভি চ্যানেলের টকশো নামের মিথ্যাগুলো গলধকরণ করেন? ছাত্রশিবির রগকাটে এমন একটা নজীর পারলে আমাকে দেখান, আমি আপনাকে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল যে মানুষের রগকটে এমন হাজারটা নজীর দেখাতে পারবো। ছাত্রশিবির মানুষ হত্যা করে এমন একটি নজীর আমাকে দেখান, আমি আপনাকে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মানুষ হত্যার হাজারটা নজীর দেখাতে পারবো, চাপাতী লীগের কোপাকুপির লাইভ ভিডিও দেখাতে পারবো। অন্ধ হইয়েন না, অন্ধ হলে ক্ষতি আপনারই হবে, দিনের আলোয় সত্যিটাকে দেখার চেস্টা করেন।

যুদ্ধাপরাধী মুক্ত দলের কথা বলছেন! অবাক হচ্ছি, কোন দেশে থাকেন? আপনিকি জানেন, আওয়ামীলীগ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ছিলেন রাজাকার? শেখ হাসিনার বেয়াই একজন রাজাকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর রাজাকারের নিয়োগদাত! মতিয়া/সাজেদাদের ইতিহাস ঘেটে দেখেন সত্যিটা জানতে পারবেন। রাজাকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক দল হচ্ছে আওয়ামীলীগ। জামায়াতকে দোষ দিচ্ছেন? দিতে থাকেন, পারলে নিরপেক্ষ আদালতে একটা অভিযোগ প্রামাণ করে দেখান!

আমি আপনাকে সারাদিন চোর বললেই যদি আপনি চোর হয়ে যান। তবে আমি বলছি, আপনি ধর্ষনে সেঞ্চুরী করা মানিকের দলের লোক, আপনি বাকশাল এবং গণহত্যাকারী দল আওয়ামীলীগের সদস্য, পারলে আমার অভিযোগ গুলো আমার আদালতে মিথ্যা প্রমাণ করেন, আমি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আমার পছন্দমতো বিচারক এবং আইনজীবি নিয়োগ দিবো।

সর্বশেষ কথা, বাংলার জনগণ জামায়াতে ইসলামকে ঠিকই গ্রহণ করেছে, শুধুমাত্র বাংলার আওয়ামীলীগ ও বাংলার নাস্তিক-মুরতাদরা জামায়াতকে গ্রহণ করেনাই


৮এপ্রিল২০১৩
(লেখাটি মূলত একটি মন্তব্য যেটি করেছিলাম, আজিম চৌধুরী নামের এক ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে)

Post Comment

সাবধান পুলিশ! সাবধান শিবির!


এক
কোনো মতে নিজের রুমে ঢুকে দেহটা বিছানায় এলিয়ে দিলাম, হতবিহবল ভাবটা তখনো কাটেনি। এটা কিভাবে সম্ভব! তিন-তিনটা পুলিশের লাশ!
আমরাতো সাথে করে অস্ত্র নিয়ে যাইনি? সর্বমোট ২০জনের মিছিল ছিলো এটি, প্রত্যেকের পকেটে ছিলো গুটিকয়েক ইটের টুকরো, ঠিক যেনো আবাবীল পাখির দল আল্লাহর দুশমনদের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো ছোট ছোট কংকর নিয়ে।
নারায়ে তাকবির স্লোগানের সাথেই সাথেই পুলিশ গুলি বর্ষণ শুরু করে, শিবিরের মুজাহিদরা পিছু হটেনাই। সামান্য ইটের টুকরো দিয়েই চালিয়ে যায় অসম লড়াই, তীব্র প্রতিরোধ!
তারপর কোথা হতে কি ঘটে যায়, বিপুল সংখ্যক পুলিশ পিছু হটে, রাস্তায় পড়ে থাকে তিনটি রক্তাক্ত লাশ, পুলিশের লাশ!
এটা কি করে সম্ভব! আবাবীল পাখির কংকরের আঘাতে পুলিশের বুক ঝাঝড়া হয়ে গেছে? নাহ! কিছুতেই হিসেব মিলছেনা! মাথাটা প্রচন্ড ঘুরছে, নিশ্চই কোথায় প্রব্লেম হয়েছে! কি সেটা!

দুই
ঠিক ৫টায় ঘুম ভাঙলো, কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা। তাড়াহুড়ো করে ওজু করে আসর নামাজ আদায় করে নিলাম।
‘স্যার একটা কথা ছিলো।‘
স্যার, ও স্যা...র!
‘হ্যা! কিছু বলছিলে? ছাত্রের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম’।
স্যার আপনাকে কেমন উদাস দেখাচ্ছে, কি হয়েছে স্যার? ক্সাস সিক্স পড়ুয়া ছাত্রটি উৎসুক দৃস্টিতে জানতে চাইলো।
না, কিছু হয়নি। কি যেনো বলছিলে?
‘স্যার, আমি শিবির করবো!’
‘কি বললা? শিবির করবা?’
‘হ্যা স্যার, শিবিরের অনেক শক্তি, শিবিরের সাথে কেউ পারেনা, আমি শিবির করবো’
‘কে বললো তোমাকে, শিবিরের অনেক শক্তি?’
‘হ্যা স্যার, আজকে টিভিতে দেখিয়েছে, শিবিরের সাথে সংঘর্ষে সারাদেশে অনেক পুলিশ মারা গেছে। শিবিরের কাছে অনেক অস্ত্র আছে স্যার। আমি শিবির করবো, আমার সাথে কেউ পারবেনা’।
‘কি বলছো তুমি! টিভিতে দেখিয়েছে?’
‘হ্যা স্যার, সারাদিনইতো দেখাচ্ছে। আপনি কোথায় ছিলেন?’
কান দিয়ে আর কথা ঢুকছেনা, দ্রুত হাতে মোবাইল তুলে নিলাম ৫৫টা মিসড কল। কখনযে মোবাইল সাইলেন্ট করেছি, জানিনা। কল বেজে উঠলো, সজল ফোন করেছে।
‘হ্যা সজল কি খবর বলো!’
‘শামীম ভাই, এগুলো কি হচ্ছে’
‘সজল আমিতো টিভি দেখিনাই, ঠিক করে বলোতো কি হয়েছে?’
‘সারাদেশে শিবিরের পূর্ব নির্ধারিত মিছিলে পুলিশ হামলা করেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে শ’খানেক পুলিশ নিহত। এবং সবচাইতে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে সবাই লাইভ বুলেটে মারা গেছে!’
‘কি বলছো, তুমি! এটা কিভাবে সম্ভব? শিবিরতো এখন পর্যন্ত অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নাই। তাছাড়া আজকে আমাদের সাথে সংঘর্ষের সময়েও ৩জন পুলিশ নিহত হয়েছে। কিছুই মাথায় ঢুকছেনা, আচ্ছা ঠিক আছে, পরে কথা হবে। আল্লাহ হাফেজ’।
‘ওকে আল্লাহ হাফেজ’

সজলের সাথে কথা শেষ হতেই রাজিব ফোন করলো,
‘শামীম ভাই, কোথায় ছিলেন? সেই কখন হতে আপনাকে ফোন করছি!’
‘মোবাইল সাইলেন্ট ছিলো, কি খবর বলো’।
‘দেখছেন ভাই, আগেই বলছিলাম। এভাবে ঠান্ডা আন্দোলন দিয়ে কিছু হবেনা। এখন পুলিশ বুঝবে শিবির কি জিনিস! এতোদিন শিবিরের পোলাপাইনরে গুলি করে মারছো, শিবির কিছু কয়নাই। এখন শিবিরও একশনে গেছে পুলিশ গুলি করলে আমরাও গুলি করবো, দেখি পুলিশের শক্তি বেশি নাকি শিবিরের শক্তি বেশি!’
‘রাজীব, শিবির এখনো অস্ত্র ইউজ করেনাই। তুমিতো আজকে মিছিলে ছিলা, আমরা কি অস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলাম?’
‘আমরা নেই নাই, কিন্তু আপনারা দায়িত্বশীলরা নিশ্চই গোপন একটা টিম নিয়ে গিয়েছিলেন, তারাই গুলি করেছে, আমার কাছে লুকাইয়েননা ভাই। এই জিনিসটা ভালো লাগেনা, আপনারা খালি কথা লুকান! আচ্ছা ভাই আবার মিছিল হইলে ডাইকেন, পুলিশ পিটাইতে ভালোই লাগে, আর জিনিস পাতি আমাদের হাতেও দিয়েন, খালি হাতে আর ভাল্লাগেনা!’
‘রাজীব তুমি বুঝতে পারছোনা, নিশ্চই কোথাও প্রব্লেম হচ্ছে। আমরা গুলি করিনাই’।
‘হা হা, ভাই হাসাইলেন! ওকে ভাই আবার কথা হবে, আল্লাহ হাফেজ’।
‘আল্লাহ হাফেজ’
কি হচ্ছে এসব! রিলায়েবল নিউজের একমাত্র সোর্চ বাশেরকেল্লা দেখতে হবে। টিভি চ্যানেল সবগুলো সরকারের পাচাটা গোলামে পরিণত হয়েছে, ওদের কথা বিশ্বাস করা যায়না। দ্রুত পা চালিয়ে বাশার দিকে হাটতে লাগলাম। ল্যাপটপ ওপেন করতে হবে। বাঁশেরকেল্লার নিউজ নাদেখা পর্যন্ত মূল ঘটনা বুঝা যাবেনা।

পাড়ার দোকানের সামনেই দেখলাম স্থানীয় বিএনপি পন্থী মুরব্বিদের ভীড়, তুমুল আলোচনা চলছে পুলিশ হত্যা নিয়ে।
আরে ভাতিজা! তোমার কথাই ভাবছিলাম, ভালোই হলো তোমাকে পেয়ে গেলাম। পান চিবোতে চিবোতে
কথা বলছিলেন হাসান কাকা। তিনি থানা বিএনপি’র সভাপতি।
‘কেনো চাচা, কি ব্যাপারে?’
‘আরে ব্যাপার আর কি? আমরা যা করতে পারিনাই, তোমরা তা করে দেখাইয়া দিলা। আমাদের দলেরতো এখন একটা মিছিল করারও ক্ষমতা নাই, আর তোমরা যা দেখাইলা, মাশাল্লাহ! আনন্দে হাসান চাচার চোখ চকচক করে উঠলো! পুলিশ তোমাদের উপর বহু নির্যাতন করেছে, তোমাদের অনেক ছেলেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে, পঙ্গু করে দিয়েছে। আজকে সেটার প্রতিশোধ নিয়ে দেখিয়ে দিলা, শিবির চাইলেই যেকোনো হত্যার বদলা নিতে পারে’।
হাসান চাচা বিএনপি করলেও শিবিরের ছেলেদের অত্যান্ত স্নেহ করেন, এমনও হয়েছে মিছিলে যাওয়ার সময় তিনি জোড় করে ভাড়ার টাকা দিয়ে দিয়েছেন। বাবারা আমরা পারছিনা, তোমরা পুলিশের বুলেটের সামনে যেভাবে খালি হাতে প্রতিরোধ করো! টাকাটা না নিলে আমি কস্ট পাবো, তার চোখ ছল ছল করে ওঠে, তখন না নিয়ে উপায় থাকেনা।
‘চাচা আমরাতো পুলিশ মারিনাই! দূর্বল কন্ঠে জবাব দিলাম।‘
হা হা, ভাতিজা হাসাইলা হাসান চাচা অট্টহাসিতে ফেটে পরলেন।
‘আচ্ছা একটা কথার জবাব দাও, আজকে তোমাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হইছে কিনা?’
‘হ্যা চাচা হইছে’
‘পুলিশ মারা গেছে শুনছো?’
‘হ্যা চাচা শুনেছি’
‘তুমি কি মনে করো, পুলিশগুলারে আসমানের ফেরেশতা আইসা হত্যা করেছে?’
‘কিছুটা ভ্যাবাচেকা খেয়ে হাসান কাকার দিকে তাকিয়ে রইলাম। সত্যিইতো, এই প্রশ্নের জবাব শিবির কিভাবে দিবে?’
‘থাক বাবা আমি কিছু মনে করিনাই, তোমরা সব কথা পাবলিকের কাছে প্রকাশ করবা এটা আশা করাও ভুল, কিছু জিনিস গোপন রাখতে হয় এটা আমি বুঝি। ঠিক আছে, ভালো থাকবা, একটু সাবধানে চলাফেরা কইরো, হাম্বালীগের বিশ্বাস নাই’।
ওকে চাচ্চা আসসালামুয়ালাইকুম!

তিন
বাঁশেরকেল্লা এবং শিবিরের প্রচার বিভাগ হতে শিবির বিবৃতি দিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডের সাথে শিবিরের দূরতম সম্পর্ক নেই, তৃতীয় কোনো পক্ষ এই ঘটনা ঘটিয়ে শিবিরের উপর দায় চাপাচ্ছে। শিবির নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করে, ইসলামী ছাত্রশিবির অস্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।

ফেসবুকের হোমপেজ ভর্তি হয়ে গেছে, পুলিশের সাথে শিবিরের সংঘর্ষের নিউজ এবং ছবিতে। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে শিবিরের রুটলেভেলের কর্মীরা স্টাটাসের পর স্টাটাস দিয়েই যাচ্ছে। ‘শাবাশ শিবির!’ ‘এই শতকের শ্রেষ্ঠ বীর ইসলামী ছাত্রশিবির!’
বিপুল জনপ্রিয় ফেসবুক ইউজাররা স্টাটাস দিচ্ছে, ‘আগেই বলেছিলাম অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে, অস্ত্রের বিকল্প নাই। এখন শিবির দেখিয়ে দিয়েছে! কুলাঙ্গার পুলিশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে রুখে দাড়ানোর বিকল্প নাই, আমরা কি শুধু পরে পরে মার খাবো! প্রতিরোধ করবোনা?’ লাইকের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে তাদের প্রতিটা স্টাটাস!
রাম-বাম গোষ্ঠীও থেমে নাই, তারাও লিখে যাচ্ছে, “স্বাধীনতাবিরধী, ধর্মব্যবসায়ী, জঙ্গীবাদী জামায়াত শিবিরের মুখোশ খুলে গেছে। এই দেশদ্রোহী, পুলিশ হত্যাকারীদের স্থান এদেশে হতে পারেনা!”
ইসলামপন্থীরা তাদের বক্তব্যকে ডিফেন্ড করছে, শিবিরের অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রচার করছে! “কোথায় ছিলো আপনাদের এই মানবাধিকার, যখন আবিদ ভাইকে চোখ উপড়ে বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো? যখন ইমরান ভাইকে হত্যা করা হয়েছিলো? কোথায় ছিলো আপনাদের মানবাধিকার যখন পুলিশ মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেছিলো শিবিরের ছেলেদের, কিংবা কক্সবাজারের সাঈদী মুক্তি আন্দোলনের সেই কর্মী যাকে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছিলো? আজ শিবিরের ছেলেরা প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে আর আপনাদের মানবাধিকার উথলে উঠছে? থুথু মারি আপনাদের এই মানবাধিকারের গায়ে”
প্রবাসী শিবিরের সাবেক কর্মীরা শুভেচ্ছা জানিয়ে ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে, কেউ কেউ প্রস্তাব দিচ্ছে আরো অস্ত্রের প্রয়োজন হলে যেনো তাকে জানানো হয়, যত টাকা লাগে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

টিভি টকশোতে ডঃ পিয়াস করিম, আসিফ নজরুল এবং অন্যান্য ডানপন্থী বুদ্ধিজিবীরা শিবিরে অবস্থানকে জাস্টিফাই করছেন। “আদালতের প্রতি অনাস্থা, বিচার ব্যবস্থার প্রতি ঘৃণা হতে শিবির এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। সরকার আদালতকে দলীয় স্বার্থ ব্যবহার করেছে, বিচার বিভাগের দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, বিরোধী দলের সভাসমাবেশের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে”।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র পক্ষ হতে জানানো হয় “এটা জামায়াতের অভ্যান্তরিণ ব্যাপার, জামায়াত-শিবিরের কর্মকান্ডের দায় বিএনপি নিবেনা। এবং এব্যাপারে আমরা কোনো বক্তব্য রাখবোনা”।
নিন্দার ঝড় উঠলো বহিঃবিশ্ব হতে। জাতিসংঘ হতেও সহানুভূতি জানানো হলো নিহতের পরিবারের প্রতি!

হৈ হৈ রৈ রৈ একটা ব্যাপার, মূল ব্যাপারে কারো নজর নেই, সত্যিইকি শিবির গুলি করেছে? সত্যিই কি শিবির লাইভ অস্ত্র ইউজ করেছে?

চার
দেশি-বিদেশী পত্রিকার নিউজ হেডলাইন, “শিবির পুলিশ বন্ধুক যুদ্ধ, ১২০পুলিশ নিহত!
অফিস, চায়ের দোকান সব জায়গাতেই একই আলোচনা। কেউ পক্ষে-কেউ বিপক্ষে, আলোচনা থেমে নেই। তবে একটা ব্যাপারে সবাই একমত, শিবিরই গুলি করে পুলিশগুলোকে হত্যা করেছে!
টিভি চ্যানেলে পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হচ্ছে, অশ্রুসজল চোখে তারা কথা বলছেন, কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বামী হারা নারী, কোথায় যাবেন তিনি? কোলের ফুটফুটে শিশু অবুঝ দৃস্টিতে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে! নির্বাক জাতি! নির্বাক সন্তান হারা মা-বাবা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তির মৃতুতে নির্বাক স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ভাইবোন।
বিবৃতির পরে বিবৃতি আসছে শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ হতে, এই ঘটনার সাথে জামায়াত শিবিরের দূরতম সম্পর্ক নাই, জাতীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে!

পাঁচ
ঘটনার রেশ কাটেনাই, দেশের সর্বত্র গুমট একটা অবস্থা, অনিশ্চিত রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে চায়ের দোকানে আলচনার ঝড় উঠছে।
হঠাৎ করেই, টিভিতে খবর প্রচারিত হলো। রাজশাহীতে শিবিরের ম্যাচে পুলিশের অভিযান, শিবির পুলিশ বন্দুক যুদ্ধ ২০শিবির কর্মী নিহত। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে রক্তমাখা মেঝেতে সারিবদ্ধ শিবির কর্মীদের লাশ, আশে পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বেশ কিছু অস্ত্র!
শিবিরের পক্ষ হতে বিবৃতি দেয়া হলো, শিবির অস্ত্রের রাজনীতি করেনা, এটা সরকারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র!
রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল হলো, সেখানেও পুলিশ গুলি চালালো। টিভিতে খবর প্রচারিত হচ্ছে, শিবিরের মিছিল হতে পুলিশের প্রতি গুলিবর্ষণ, বন্দুক যুদ্ধে ৯শিবির কর্মী নিহত!
দিনের পর দিন একই নিউজ, কখনো রাজশাহী, কখনো বগুড়া, কখনো চট্টগ্রাম কখনো মাদারীপুর। ঘটনাস্থান ভিন্ন হলেও কাহিনী একই, “শিবির কর্মীর বাসায় পুলিশের অভিযান, শিবির-পুলিশ বন্দুক যুদ্ধ! নিহত ৪/৫” মাঝে মধ্যে দুই/চারজন পুলিশ নিহত হওয়ার সংবাদও পাওয়া যাচ্ছে!
সেনাবাহিনী, র্যা ব, পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ টিম গঠন করা হলো, অপারেশনের নাম যাই হোকনা কেনো, মূল উদ্দেশ্য শিবির নিধন!
প্রতিটা ঘটনাই, অনলাইন মিডিয়া এবং টিভি মিডিয়ার মাধ্যমে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলোনা, সবচাইতে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, জনগনের বিরাট একটা অংশ এই কাহিনী বিশ্বাস করছে! পরিকল্পিত গণহত্যাকে বৈধতা দিচ্ছে!

ছয়
ঘুমিয়ে ছিলাম, রাত তিনটার দিকে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হতেই লাফিয়ে উঠলাম। ম্যাচের অন্যান্য সদস্যরাও দেখলাম জেগে উঠেছে, আতঙ্কের ছাপ সবার মুখেই!
কাঁপা কাঁপা কন্ঠে প্রশ্ন করলাম, কে?
‘আমরা পুলিশের লোক, দরজা খুলুন!’
এতো রাতে এসেছেন কেনো, সকালে আসেন! তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানালাম।
‘দরুজা না খুললে, আমরা ভেঙে ঘরে ঢুকবো!’
সবার মুখের দিকেই তাকালাম, কেউ কোনো কথা বলছেনা! চোখে চোখে কথা হয়ে গেলো!
দরজা খুলে দিলাম, হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে গেলো একদল পুলিশ! একে একে সবারই হাত বেধে ফেলা হলো!
অস্ত্র কোথায় রেখেছিস বল! গর্জন করে উঠলো অফিসার গোছের মানুষটা!
‘কিসের অস্ত্র? অস্ত্র আসবে কোথা হতে?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম!
‘শিবির করিস, আবার বলছিস অস্ত্র আসবে কোথা হতে? কেনো সেদিন মিছল হতে পুলিশের উপর যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছিলি , সে অস্ত্র গুলো কোথায় রেখেছিস?’
‘আমরা কখনো গুলি করিনাই, এগুলো মিথ্যাচার। শিবির অস্ত্রের রাজনীতি করেনা!’
‘মিথ্যাচার নাকি সত্যাচার সেটা কালকের টিভিতেই প্রচারিত হবে, সেন্ট্রি গাড়ি হতে কালো ব্যাগটা নিয়ে এসো!’
কিছুক্ষণ পরেই সেন্ট্রি ফিরে এলো, তার হাতে একটি কালো ব্যাগ! ব্যাগ থেকে একে একে বেরিয়ে এলো বেশকিছু পুরাতন মরিচা ধরা অস্ত্র!
‘এগুলো তোদের অস্ত্র, এগুলো দিয়ে তোদের সাথে আমাদের যুদ্ধ হয়েছে এবং যুদ্ধ শেষে তোরা সবাই নিহত হয়েছিস!' অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো অফিসার, 
তোদের শিকড় সহ উপড়ে ফেলার আগ পর্যন্ত আমরা থামবোনা!

অফিসার বেরিয়ে গেলো, যাওয়ার আগে নির্দেশ দিলো এদের সবাইকে গুলি করে মারো!
ততক্ষণে ভোর হয়ে গেছে, জানালা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে ঢুকছে সূর্যের সোনালী আলো!

১৭আগস্ট২০১৩

(কিছু ভাই ইদানিং অনলাইনে সশস্ত্র সংগ্রামের কথা বলছেন, লেখাটি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা)

Post Comment

গল্প দাদুর আসরঃ জাতীয় মুক্তি দিবস


২০৩০সালের ১৫ই আগস্ট
পল্টন যাচ্ছিলাম, এলাকার প্রবেশ মুখেই দেখলাম একদল ছেলে, দানবের ছবিতে থুথু নিক্ষেপ কর্মসূচী পালন করছে, পাশাপাশি চলছে মিস্টি বিতরণ।
ব্যাপার কি, ব্যাপারি কি?
একজন মনে করিয়ে দিলো আজ ‘জাতীয় মুক্তি দিবস’
ওহ ভুলেই গিয়েছিলাম!
পল্টন ময়দানে আজতো গল্প-দাদুর আসর বসবে, গল্প দাদু গল্প শুনাবেন, ঢাকার সবগুলো স্কুলের শিশুরা দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে গল্প শুনবে। গল্পের ছলে তাদের শেখানো হবে দেশের ইতিহাস, জাতীয় উত্থান পতনের ইতিহাস।

প্রচন্ড ভীড় পল্টন ময়দানেরর আশে পাশে, তিল ধারণ করার জায়গা নেই। রঙ বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, গ্যাস বেলুন নিয়ে মিছিলে মিছিলে বিভিন্ন স্কুল এবং কালচারাল সংগঠনের শিশুরা পল্টন ময়দানে হাজির হচ্ছে। উৎসব মুখর একটি পরিবেশ।
শিশুর অভিভাবকদের জন্য একপাশে সামিয়ানা টানিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে, আমিও বসে পড়লাম। প্রতিবছরই বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে ‘গল্প দাদুর’ আসর হয়। দেশের প্রথিত যশা সাহিত্যিকরা হন সেই আসরের মধ্যমনি, তারা শিশুদের গল্প শোনান, গল্পের ছলে ইতিহাস শেখান।

লাউডস্পীকার অন করতেই চারিদিকের শোরগোল থেমে গেলো, সবাই উদগ্রীব হয়ে বসে আছে, গল্প দাদু আসন গ্রহণ করলেন, পিনপতন নিরবতা পালন করছে স্কুল পড়ুয়া শিশুরা।

একদেশে এক দানবের জন্ম হয়েছিলো, গল্প দাদু তার গল্প শুরু করলেন। দানবের জন্ম হয়েছিলো বলতে বলা যায় দেশের জনগণই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দুধ কলা খাইয়ে লালন পালন করে গড়ে তুলেছিলো, সেই বিশাল দানব!
দানবটাকে সবাই আদর করে ভালোবেসে পিতা বলে সম্বোধন করতো, করবেইনা বা কেনো! জনগণের বিশ্বাস ছিলো, দেশের উপর সকল বিপদ আপদ হতে এই দানব তাদের সুরক্ষা দিবে।
জনগণের বিরাট একটা অংশ এই দানবের পূজা করা আরম্ভ করলো, তারা ভুলে গেলো আল্লাহকে, ভুলে গেলো ইসলামকে, নিজেদের ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাকেই তারা নিজেদের জন্য গ্রহণ করে নিলো।

গল্প দাদু থেমে গেলেন, বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের রেসপন্স বুঝার চেস্টা করছেন।
কৌতুহলী বাচ্চারা চোখ বড় বড় করে সমস্বরে জিজ্ঞাসা করলো, তারপর......?

গল্প দাদু আবার শুরু করলেন, দেশের ইসলামপন্থীরা এই দানবের জন্মের বিরোধীতা করা শুরু করলো, তারা জনগণকে বুঝাতে চেস্টা করলো, এই দানব একদিন তোমাদের ধ্বংস ডেকে আনবে, প্রতিবেশী দেশের সহায়তায় তোমাদের হত্যা করবে, তোমাদের অধিকার কেড়ে নিবে, তোমাদের পড়ানো হবে গোলামীর শৃঙ্খল। এখনো সময় আছে, সঙ্কট সমস্যার সমাধানে ইসলামকে বেছে নাও, ইসলামই দিতে পারে মানবতার প্রকৃত মুক্তি।
কিন্তু ইসলামপন্থিদের কন্ঠ জোড়ালো ছিলোনা, জনগনের মনমানসিকতা তাদের বক্তব্য গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত ছিলোনা। তাছাড়া সেই দানবের কন্ঠে ছিলো জাদু, ছিলো মোহনীয় ক্ষমতা, সেই দানব জনগণের ভাষায় কথা বলতে জানতো, জানতো জনগনের আবেগকে জাগ্রত করার কৌশল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো, দানবের বিজয় হলো, ইসলামপন্থীরা হলো লাঞ্ছিত-অপমানিত।

গল্প দাদু থেমে গেলেন, তিনি চোখ মুছছেন। দেশের শিশুরাও ইসলামের ব্যাপারে বেশ সংবেদনশীল, ইসমাপন্থীদের পরাজয়ের কথা শুনে তাদের চোখেও পানি টলমল করছে ।

বিজয়ের দ্বরাপ্রান্তে উপনীত হয়েই দানবের অনুসারী ও প্রতিবেশী রাস্ট্রের সৈন্যরা কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো। ক্ষমতা নিস্কন্টক করার লক্ষে দেশের সকল বুদ্ধিজীবি, যারা দানবের পক্ষ হয়ে লড়াইতে অংশগ্রহণ করে নাই, রাতের অন্ধকারে তাদের ধরে ধরে হত্যা করা হলো।

দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করলো দানব, জনগণ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে দানবকে বরণ করে নিলো। তাদের চোখে স্বপ্ন, দেশে ক্ষুধা থাকবেনা, দারিদ্র থাকবেনা, ছিনতাই, হত্যা’র মতো অপরাধ হতে জাতি রক্ষা পাবে।
ক্ষমতার মসনদে বসেই দানব তার স্বরুপে আভির্ভুত হলো। প্রতিবেশি রাস্ট্রের সহায়তায় দেশের সম্পদ খাওয়া শুরু করলো। দেশে সংঘঠিত হলো স্মরণকালের ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষ, ১০লক্ষেরও অধিক মানুষ প্রাণ হারালো এই দূর্ভিক্ষে। দানবের পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে প্রাণ হারালো দেশের জনগণ।

দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিলো দানবের ক্ষুধা! চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে সংসদের স্পীকারকে হত্যা করেছিলো এই দানব, দেশের সেনাবাহিনীকেও খাওয়া শুরু করলো, নিজেকে রক্ষার জন্য গঠন করলো রক্ষি বাহিনী। রক্ষিবাহিনী ঝাপিয়ে পড়লো নিরস্ত্র প্রতিবাদী জনতার উপর। হাজার হাজার জনতা প্রাণ হারালো এই রক্ষিবাহিনীর হাতে। শুধুমাত্র বিরোধী দলেরই ৬০হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হলো।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গল্পদাদু ক্লান্ত হয়ে গেলেন, টেবিলে রাখা গ্লাস হতে ঢক ঢক করে একগ্লাস পানি পান করলেন। উৎসুক শিশুরা নির্বাক হয়ে গল্প শুনছে, দেশের গল্প, ইতিহাসের গল্প, এক মহা দানবের গল্প।

গল্পদাদু আবার শুরু করলেন, যে দেশের জনগণ দানবটাকে আদর করে ভালোবেসে পিতা বলে সম্বোধন করতো, সেই দেশের জনগণই এখন আড়ালে আবডালে তাকে ফেরাউন বলে আখ্যায়িত করা শুরু করলো। করবেইনা কেনো, ক্ষমতায় আরোহন করেই চট্টগ্রাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম হতে কোরানের আয়াত মুছে ফেললো, কবি নজরুল ইসলাম কলেজের নাম হতে ইসলাম শব্দটা বাদ দিয়ে শুধু কবি নজরুল কলেজ নামকরণ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল হতে মুসলিম শব্দটা বাদ দিয়ে শুধু সলিমুল্লাহ হল নামকরণ করা হয়। আল্লামা ইকবাল হলকে করা হয় সূর্যসেন হল। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সড়কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইন্দিরাগান্ধী সড়ক। রেডিওতে কোরান তেলাওয়াত বন্ধ করে দেয়া হলো, রবীন্দ্রসঙ্গীত’কে সকাল সন্ধ্যা ইবাদতের মতো করে প্রচার করা হলো।

শিশুরা একসাথে ধিক্কার জানালো ছিঃ ছিঃ, ছিঃ ছিঃ। সামনে রাখা ময়লার ফেলার ঝুড়িতে থু থু নিক্ষেপ করলো, থুঃ থুঃ, থুঃ থুঃ।

দানবটি’র সন্তান ছিলো আরো বেপরোয়া, পিতার ক্ষমতাবলে ব্যাংক লুট করলো, সেনা অফিসারের স্ত্রীকে অপহরণ করলো, পিতা ছিলো নির্বিকার। অন্যায়ের প্রশ্রয়দাতা, ইন্ধনদাতা।

দিন দিন দানবের ক্ষুধা বেড়ে যাচ্ছিলো, একদিন দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিলো। নিজের কথা প্রচার করার জন্য তিনটি পত্রিকা রেখে, দেশের সকল পত্রিকা খেয়ে ফললো ক্ষুধার্থ দানব। দেশের সকল রাজনৈতিক দল খেয়ে ফেললো। স্লোগান চালু হলো ‘একনেতার একদেশ, দানব নেতার সোনার দেশ’।
শিশুরা আবার ধিক্কার জানালো ছিঃ ছিঃ, ছিঃ ছিঃ। দানব গণতন্ত্র হত্যাকারী!

জুলুম-নির্যাতনে অতিষ্ঠ জনগণ বুঝতে শুরু করলো কি ভুল তারা করেছে, ততদিনে দানব তাদের বেধে ফেলেছে। জনগণ মুক্তি চায়, বুক ভরে নিতে চায় স্বাধীনতার মুক্ত বাতাস। স্বাধীনতা কি এতই সহজ! জনগণ ফিরে যায় তাদের রবের কাছে, আল্লাহর কাছে দোয়া করে, হে মাবুদ! হে পরওয়ার দিগার আমাদের মুক্তি দাও, এই লাঞ্ছনার জীবন হতে আমাদের উদ্ধার করো, তোমার পক্ষ হতে আমাদের কাছে সাহাজ্যকারী পাঠাও!

শিশুরা সমস্বরে চেচিয়ে ওঠে, তারপর? আল্লাহ কি তাদের দোয়া কবুল করেছিলেন?

পকেটের রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছছেন গল্প দাদু। হ্যা, মহান রব্বুল আলামীন জনগনের এই আকুতি ভরা প্রার্থনা ফিরিয়ে দেননি, তিনি তাদের দোয়া কবুল করেছিলেন।
একদিন সেনাবাহিনীর একদল বীর মুজাহীদ শপথ গ্রহণ করলেন, এই জালিমের শোষণ নির্যাতনের হাত হতে নির্যাতিত নিষ্পেষিত মানবতার মুক্তির জন্য তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিবেন।
তারা তাদের শপথ বাস্তবায়ন করেছিলেন, সংঘঠিত করেছিলেন গণবিপ্লবের। অত্যাচারী জালিম শাসকের হাত হতে ছিনিয়ে এনেছিলেন মানবতার মুক্তি, আনন্দে উদ্বেলীত জনতা বিলিয়েছিলো মিস্টি, আনন্দের মিস্টি, মুক্তির মিস্টি।

আজকের এই দিনে আমরা ১৫ই আগস্টের সেইসব বীর মুজাহীদদের সম্মান জানাই, শিশুরা দলবেধে দাড়িয়ে গেলো, তাদের হাতে হাতে পত পত করে উড়ছে অসংখ্যা কালেমা খচিত পতাকা, আজ এই পতাকা উড়ানো হচ্ছে সেই সব বীর মুজাহীদদের স্মরণে যাদের অপরিসীম সাহস এবং আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি পেয়েছিলো একটি স্বাধীন স্বৈরাচার মুক্ত স্বদেশ, বুক ভরে নিশ্বাস নেয়ার জন্য মুক্ত বাতাস।

একটু ব্যস্ততা ছিলো, আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে গল্প দাদুর আসর হতে বিদায় নিলাম। গল্প দাদু তার পরবর্তী গল্প শুনাচ্ছেন, সে গল্পে আছে কিভাবে আমাদের এই দেশ ইসলামীক রিপাব্লিক অব বাংলাদেশে রুপান্তরিত হয়েছে।

১৪আগস্ট২০১৩

Post Comment

তোমরা যারা হরতাল করো' অথবা তোমরা যারা জিহাদ করো


বর্তমান আওয়ামী সরকার জামায়াতে ইসলামীর উপর যে জুলুম নির্যাতন পরিচালিত করছে এব্যাপারে সচেতন মানুষ মাত্রই অবগত আছি। এর প্রতিবাদে জামায়াতের করণীয় নিয়ে সংগঠনের ভেতরে বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে, শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, ফাসির দন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। মিছিল সমাবেশে গুলি করা হচ্ছে, এমনকি ঘরোয়া বৈঠকের মতো নিরীহ কর্মসূচীকেও নাশকতার পরিকল্পনা আখ্যায়ীত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জামায়াত-শিবির কর্মীদের। ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছে হাজার হাজার জামায়াত-শিবির কর্মী।

এমতাবস্থায় জামায়াত-শিবির তিন ভাবে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে।
১।নরমপন্থা, ২।মধ্যমপন্থা ৩।চরমপন্থা

নরমপন্থাঃ-
সরকারের সকল জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে জামায়াত শিবির অন্তর থেকে তাদের ঘৃণা করবে, মসজিদের কোণায় বসে জিকির করে আল্লাহ’র সহযোগীতা প্রত্যাশা করবে, আল্লাহ যেনো ফেরেশতা নাজিল করে তাদের বিপদমুক্ত করেন।
মানববন্ধন, বেলুন উড়ানো কর্মসূচী, ২মিনিট নিরবতা পালন ইত্যাদি কর্মসূচী পালন করে সরকারের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বিপ্লবী প্রতিবাদ জানানো
কুফল- সরকার আগামী দুইশত বছর পরে বিরোধী দলের দাবী মেনে নিবে বলে বিশ্বাস করা যায়।
সুফল- সরকার খুশি, মহাজ্ঞানী পাবলিকেও খুশি। আহা! কি সুন্দর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী!

মধ্যমপন্থাঃ-
সরকারকে রাস্ট্র পরিচালনায় বাধা প্রদান করা, এ লক্ষে দেশের অর্থনীতির চাকা বন্ধ করে দেয়া। দেশের সকল মিলকারখানা বন্ধ করে দেয়া। সর্বোপরী সর্বাত্মক হরতাল পরিচালিত করা।
কুফল- সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
সুফল- দেশের মানুষের কানের ছিদ্র অনেক ছোট, হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করা না হলে জনগণ সরকারের অপকর্ম সম্পর্কে অবগত হয়না। হরতাল আহবান করা হলে তারা জিজ্ঞাসা করে, হরতাল আহবান করা হয়েছে কেনো? সে হিসেবে হরতাল একদিকে যেমন সরকারকে বাঁশ দেয়, অন্যদিকে বিরোধীদলের পাবলিক রিলেশনের কাজটিও সুচারুভাবে পালন করে।

চরমপন্থাঃ-
সংগঠিতভাবে দেশের পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষনা করা, ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন আসতে পারে, অস্ত্র আসবে কোথা হতে? হিসেব সহজ, অস্ত্র দিবে সরকার, ইন্ডিয়া দিবে, আমেরিকা দিবে, ইসরাইল দিবে। ইসলামপন্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে পারলে, সবচাইতে বেশি লাভবান হবে এই শক্তিগুলো।
জামায়াত মারবে সেনাবাহিনীকে, সেনাবাহিনী মারবে জামায়াতকে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, জঙ্গিমুক্ত করতে, সর্বোপরি বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করবে, জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষি মিশনের সাথে আমেরিকার সৈন্য আসবে, ন্যাটো আসবে।
কুফল- চিরস্থায়ী যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হবে বাংলাদেশ, ইসলামী শক্তি নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই লড়াই থামবে বলে মনে হয়না।
সুফল- অতিআবেগি যুদ্ধবাজরা যুদ্ধ করার জন্য একটা ময়দান পাবে।

সারমর্মঃ আসেন অস্ত্র হাতে তুলে নেই, যুদ্ধ করি!


১৩আগস্ট২০১৩

Post Comment

জেল গেইট মোবারক!


ভোর বেলায় ম্যাসেজ করেছিলাম মহানগরীর অর্থ সম্পাদক শাহীন ভাইকে। বেশি কিছু লিখি নাই, দুটি মাত্র শব্দ ছিলো সেখানে ‘ঈদ মোবারক’।
শাহীন ভাই রিপ্লাই দিয়েছেন, ‘জেল গেইট মোবারক’!!
আপাত দৃস্টিতে রিপ্লাইটিকে সিম্পল ফানি ম্যাসেজ মনে করা হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে আছে নির্মম বাস্তবতা। ঠিক যে সময়টিতে আমরা আমাদের প্রিয়জন আত্মীয়স্বজনের সান্নিধ্যে ঈদ উদযাপন করছি, ঠিক সেই মুহুর্তেই আমাদের ভাই, ইসলামী আন্দোলনের কিছু অকুতোভয় মুজাহিদ চারদেয়ালের অভ্যান্তরে আত্মীয়-পরিজনের থেকে বহুদূরে ঈদের দিন অতিবাহিত করছে। আমরা কি পারছি তাদের হৃদয় অবস্থা উপলব্ধি করতে? যদি আমরা সেটা না পারি তবে বুঝতে হবে আমাদের ঈমানের ঘাটতি আছে, আমরা এখনো পরিপূর্ণ মুসলিম হয়ে উঠতে পারিনাই।

গত কোরবানীর ঈদ করেছিলাম কারাগারের অভ্যান্তরে, এবারের রমজানের ঈদও সেখানেই করার সম্ভাবনা ছিলো, একটুর জন্য মিস হয়ে গেছে। ঈদের দিন ভোরেই দেখলাম বিশাল দলবল নিয়ে শাহীন ভাই কারাগারে এসে হাজির, অত্যান্ত খুশি হয়েছিলাম প্রিয় ভাইদেরকে এই আনন্দের দিনে কাছে পেয়ে। শাহীন ভাই জানালেন, ঈদের নামাজ তারা জেল গেইটের মসজিদেই আদায় করেছেন। কিছুটা অনুযোগের সুরে বললাম, আজকে ঈদের দিনে মা-বাবার সাথে ঈদ না করে এখানে কি করছেন? শাহীন ভাই জবাব দিয়েছিলেন, আমাদের ভাইদের জেলের ভেতরে রেখে আমরা কিভাবে ঈদ করি? চোখে ফেটে পানি চলে এসেছিলো, কিছু বলতে পারিনাই। এটাই ইসলাম, এটাই ইসলামী আন্দোলন! মুসলিম উম্মাহ হচ্ছে একটি দেহের মতো, তার একটি অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হলে সমস্ত দেহ সে ব্যাথা অনুভব করে।

আমাদের পরিচয় আমরা মুসলিম, আমাদের পরিচয় আমরা ইসলামী আন্দোলনের কর্মী, আমাদের পরিচয় আমরা ইসলামী ছাত্রশিবির।

৯আগস্ট২০১৩

Post Comment

হাসিনা সরকারের উন্নয়নের সাইনবোর্ড


facebook link
এনালগ
স্বামীঃ দেখোতো সূর্য উঠছে কিনা?
স্ত্রীঃ কি ঘুট-ঘুইট্টা আন্দার! কিচ্ছু দেহা যায়না।
স্বামীঃ আরে বেডি, আন্দার হইলে হারিকান জ্বালাইয়া দেখ!

ডিজিটালঃ
স্বামীঃ দেখোতো পদ্মা সেতু তৈরী হইছে কিনা?
স্ত্রীঃ কোথায়? নদীতেতো কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা!
স্বামীঃ আরে বেডি, নদীতে না দেখলে বিলবোর্ডে দেখ!

৮আগস্ট২০১৩

Post Comment

বমি বিড়ম্বনা!


এক।
কথা ছিলো, বড় আপার সাথে ফুপাতো বোন বাসের সামনের দিকের সিটে পাশাপাশি বসবে, আর আমি বসবো পেছনের দিকের আলাদা সিটে।
বাসে উঠেই আমি টাস্কিত! আমার বরাদ্দকৃত সিটের পাশের সিটেই বসে আছে এক রুপসী ললনা। ফুপাতো বোনকে চোখ টিপে বললাম, আপনি গিয়ে বড় আপার পাশে বসে পড়েন। আমার সময় ভালোই কাটবে বলে মনে হচ্ছে!
চোখ মটকে ফুপাতো বোন বললো, যা ফুট! এহ, সখ কতো! বড় আপা জার্নিতে বমি করে, আমি বমি সহ্য করতে পারিনা। তুই গিয়ে আপার পাশে বস, আমি এখানেই বসবো! ভগ্ন হৃদয়ে গিয়ে আপার পাশে বসে পড়লাম, সিনিয়রের নির্দেশ শীরোধার্য। সুন্দরী বোধহয় আমাদের কথা শুনে ফেলেছিলো, দেখলাম অন্যদিক তাকিয়ে মুখ টিপে টিপে হাসছে।
হাতে পলিথিন নিয়ে তটস্থ হয়ে বসে আছি, বলাতো যায়না, কখন বমি করা শুরু করে! বমি নিয়ে বড় আপার নিজের কোনো মাথা ব্যাথা নেই, জানালার পাশের সিটে বসে বসে নির্মল হাওয়া খাচ্ছে।

বাস চলছে, নির্ঝঞ্জাটেই অতিবাহিত করলাম কয়েকটি ঘন্টা। হঠাৎ পেছনের দিকে হৈচৈ শুনে ছুটে গেলাম, কি হলো, কি হলো?
গিয়ে দেখি, সেই সুন্দরী ওয়াক! ওয়াক বলতে একেবারে ওয়াক আউট! মানে আউট করে দিয়েছে, একেবারে মালির ঘাড়ে! অর্থাৎ আমার ফুপাতো বোনের গায়ের উপর।
অসহায় দৃস্টিতে ফুপাতো বোন আমার দিকে তাকিয়ে আছে! লজ্বায় বিব্রত সুন্দরী, মাথা নিচু! একবোতল পানি এগিয়ে দিলাম, আপা দেখলাম নিজের দুঃখ ভুলে ওই সুন্দরীর সেবায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন!
ওহ! বলতে ভুলে গেছি, সে যাত্রায় বড় আপা বমি করেনাই।

দুই।
সন্দ্বীপ গিয়েছিলাম, বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়েতে। সাগরের উথাল পাথাল ঢেউ অতিক্রম করে একসময় পৌছে গেলাম বিয়ে বাড়ি।
রাতে থেকে পরদিন রওয়ান হলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে, বড়যাত্রী বোঝাই জাহাজ। জাহাজ বলতে কাঠের তৈরী বড় মাপের ট্রলার। উত্তাল সাগর! প্রচন্ড ঢেউ! একবার ডানে একবার বামে আছড়ে পড়ছে জাহাজ নামের প্রকান্ড ট্রলার। কাঠ ফাটার ক্যাওচ ক্যাওচ শব্দ আতঙ্ক সৃষ্টি করছে যাত্রীদের মনে।
জাহাজের গুটি কয়েক যাত্রী বাদে সবাই বমি করে অস্থির! জাহাজের পাটাতনে পা ফেলার জায়গা পাচ্ছিলামনা, পুরো জাহাজ বমিতে মাখামাখি!
নতুন বউ, জীবনে কোনদিন সন্দ্বীপ চ্যানেল অতিক্রম করে চট্টগ্রাম আসেনাই। প্রথমবার এই পরিস্থিতে পড়ে একবারে যায়যায় অবস্থা! জামাইয়ের অবস্থাও একই!
জাহাজ থেকে আধমরা বউ নামানোর মতো কেউ অবশিষ্ট নাই! শেষ মেষ বউয়ের ছোট ভাই একদিকে এবং আমি অন্যদিকে, দুইজনের কাধে ভর করে গাড়ি পর্যন্ত কোনো রকমে তুলে আনলাম।

পরিশিষ্ট্যঃ ঈদের লম্বা ছুটি, যান্ত্রিক জীবন হতে খানিক সময়ের জন্য স্বস্তি লাভ করতে অনেকেই গ্রামের উদ্দেশ্যে ছুটবেন, আত্মীয়তার বন্ধন উপভোগ করবেন। কিন্তু সেখানেই বিপত্তি! পরিবারের কোনোনা কোনো সদস্য জার্নি সহ্য করতে পারেনা, তারা বমি করবেই। মার ধর করে, ঝাড়ি মেরে, ভয় দেখিয়ে, আর যাই হোক বমি বন্ধ করা যায়না।
সতর্কতা হিসেবে লং-জার্নিতে সাথে করে পলিথিন এবং বমি রোধক ঔষধ রাখতে পারেন

৫আগস্ট২০১৩

Post Comment

আমি মসজিদে ঢুকিয়েছি, আপনি অজু করান!


এক লোক নামাজ পড়তোনা, একদিন মসজিদের ঈমাম সাহেব ডেকে বললেন আপনি নামাজ পড়েননা কেন? ওই লোক জবাব দিলো হুজুর নামাজ পড়লে অজু করতে হয়, অজু করতে আমার ভালো লাগেনা, বিরক্ত লাগে। হুজুর অবাক হওয়ার ভান করে বললেন নামাজ পড়তে অজু লাগে আপনাকে কে বলেছে? আপনি নামাজ পড়েন, অজু না করলেও চলবে। ওই লোক হুজুরের কথা অনুযায়ী প্রতিদিন অজু ছাড়া নামাজ পড়তে থাকলেন।
কিছুদিন পরে ওই ঈমাম সাহেব অন্য মসজিদে চাকরি নিয়ে চলে গেলেন, মসজিদে নতুন ঈমাম আসলেন, তিনি লোকটার অজু ছাড়া নামাজ পড়া দেখে অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, আপনি অজু করেননা কেন? লোকটি বললো আগের হুজুর বলেছে অজু না করলেও নামাজ হবে।
নতুন ঈমাম আগের ঈমাম সাহেবের সাথে দেখা করে জিজ্ঞাসা করলেন আপনি একথা বলেছেন? আগের ঈমাম সাহেব জবাব দিলেন, হা আমি বলেছি, আমি তাকে মসজিদে ঢুকিয়েছি এবার তাকে অজু করানোর দায়ীত্ব আপনার

২১জানুয়ারী২০১৩

Post Comment

আবুল কালাম আযাদের বিচার ও ভাওতাবাজী।


facebook link
মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিচারের রায় হচ্ছে বিচারের নামে ভাওতাবাজী।
ধরা যাক তিনি মাস ছয়েকের মধ্যে ধরা পড়লেন, এর পরে যে দেশে তিনি ধরা পরবেন সে দেশে যদি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন? তখন আবার সেখানে সেই বিষয়টির শুনানী হতেও অনেক কালক্ষেপন হবে।
ধরা যাক সেই দেশ তার রাজনৈতিক আশ্রয় এ্যালাউ করলোনা, তাকে দেশে নিয়ে আসতেও কিন্তু অনেক আইনী জটিলতার সম্মুখীন হতে হব, এর মাধ্যেমেও কিন্তু কালক্ষেপণ হবে।
ধরা যাক তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো, সেতো দেশে এসে বলবে আমার নামে মামলা হয়েছে আমি জানিনা, আপনারা আমার অনুপস্থিতিতে কিভাবে আমার বিচার করলেন? তখন আবার এই বিষয়টির সুরাহা করতে হবে।
বলা যায় আবুল কালাম আযাদের বিচারের রায় কার্যকর করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরেক বার ক্ষমতায় থাকতে চাইতে পারেন!
জনগণ দয়া করেন, আরেকটা ভোট ভিক্ষা দ্যান!!

২২জানুয়ারী২০১৩

Post Comment

শহীদ হওয়া কি এতই সহজ?


এক
২০০৪সালের কথা গ্রামের বাড়ি যাবো সাথে বন্ধু কামরুল, সদর ঘাট থেকে লঞ্চে উঠলাম। বুড়িগঙ্গা ফেলে লঞ্চ পদ্মা পর্যন্ত যেতে যেতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেলো, বাতাস অস্থির হয়ে এদিক সেদিক ছোটা ছোটি করছে। লঞ্চের যাত্রিরা ভয়ে আল্লাহর নাম নেয়া শুরু করলো, কামরুল আর আমি তখন লঞ্চের ছাদে পদ্মার একুল ওকুল দু'কুলের কিছুই দেখা যাচ্ছেনা, ভয়ার্ত কন্ঠে কামরুল বললো এখন লঞ্চ ডুবলে কি করবেন?
আমি হাসতে হাসতে জবাব দিলাম, চিন্তা কইরেননা, মরবোনা! কামরুল জিজ্ঞাসা করলো কিভাবে? আমি বললাম শুনেছি পানিতে ডুবে কিংবা আগুনে পুড়ে মরলে নাকি শহীদী মর্জাদা পাওয়া যায়, দুনিয়াতে এমন কি ভালো কাজ করেছি যে আল্লাহ আমাদের শহীদ হিসেবে কবুল করবেন? আর এমন কি পাপ কাজ করেছি যে ফিরাউনের মতো মরতে হবে! 
এই চরম টেনশনের মধ্যেও কামরুল শব্দ করে হেসে উঠলো।

দুই
১৬ই নভেম্বর ২০১১ চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির এক ভাই ফেসবুকে স্টাটাস দিলেন “হে আল্লাহ, তুমি আমাদের সকল গুনাহ, ত্রুটি-বিচ্যুতি মাফ পরে দিয়ে তোমার প্রিয় বান্দাদের মাঝে অর্ন্তভূক্ত কর। আমাদেরকে তোমার পথে লড়াই করে গাজী হওয়ার তৌফিক দাও। আর মরণ লেখা থাকলে তা যেন হয় শহীদী মরণ। আমাদের উপহার দাও তোমার দিদার ও জান্নাত।”
তার পিতা জনাব হাবিবুর রহমান সেই স্টাটাস পড়ে কমেন্ট বক্সে তার জন্য দয়া করলেন "আমিন" কারণ তিনি জানতেন “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না৷ তারা আসলে জীবিত ৷ নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে৷”-সূরা আল-ইমরান, আয়াত ‌১৬৯।
শুধুমাত্র এই একবারই নয় অগুনিত বার ফেসবুকে এবং ব্যক্তিগত পর্যায় বিভিন্ন ভাইয়ের কাছে তিনি শাহাদাতের তামান্না প্রকাশ করেছেন। শাহাদাত প্রত্যাশী এই ভাই আর কেউ নয় আমাদের প্রিয় শহীদ মাসুদ বিন হাবিব গত বছরের ২০১২সালের ৮ই ফেব্রুয়ারী তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
সত্যি আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদেরই শাহাদাতের জন্য কবুল করেন, আল্লাহকে যারা ভালোবাসে আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসে

২৭জানুয়ারী২০১৩

Post Comment

বিএনপি দক্ষতার সাথে চুরিও করতে পারেনা!


facebook link
বিএনপি কি পারে? দক্ষতার সঙ্গে চুরিও করতে পারেনা! তারেক রহমানের কথাই ধরেন, কয়টাকা আর চুরি করেছে, কিন্তু তিনি এখন জনগণের চোখে দূর্নীতির বড় পুত্র। অন্যদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চারগুন টাকার দূর্ণীতির অভিযোগ থাকার পরেও সেটা জনগণ জানতে পারছেনা।
আবার দেখেন হলমার্ক কেলেঙ্কারী হলো, শেয়ার বাজার লুটপাট হলো, পদ্মাসেতু প্রকল্প স্থগিত হলো সব এখন শান্ত, জনগণ এটা নিয়ে কিছু বলছেনা।
অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূর্নীতির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে মাহমুদুর রহমান মামলা খেয়ে হয়রান, কুইক রেন্টালের নামে শত শত কোটি টাকা জনগনের পকেট কেটে নেয়া হচ্ছে, কেউ কিছু বলছে? কেন বলছেনা? কারণ আওয়ামীলীগ জানে কিভাবে চুরি করতে হয়। বিএনপি সেই কাজটিও ভালো করে পারেনা।
কথায় আছেনা! চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি সারতে পারে

২৭জানুয়ারী২০১৩

Post Comment

ডিবি অফিস হতে বলছি


--আসসালামু আলাইকুম
ওয়ালাইকুম আসসালাম
--বদিউর রহমান সাহেব বলছেন?
জ্বি, বলেন!
--ডিবি অফিস থেকে বলছি
কোন ডিবি অফিস থেকে?
--ডিবি অফিস কয়টা? আপনার নামেতো মামলা হয়েছে ২টা।
এখন?
--এখন আর কি, আপনাকে জেলে যেতে হবে।
জেলে যেতে হবে! না গেলে হয়না?
--হা! টিকেট যখন কাটছেন, ঢুকতেতো হবেই।
বদি ভাইতো বাসায় নেই।
--আপনি কে বলছিলেন?
আমি তার ছোট ভাই রাসেল।
--হা হা, আচ্ছা বদি ভাই আসলে বইলেন শামীম ভাই ফোন করেছিলো।
হা’রে শামীম ভাই.........  কেমন আছেন? যে ভয় লাগাইছেন  এখন কোথায় আছেন?
---জেল গেটে, আপনাকে দেখতে আসছিলাম, এখন শুনলাম আপনি চলে গেছেন! এইটা একটা কাম করছেন মিয়া!? কত কস্ট করে সিলিপ কাইটা ঢুকছি!
হ ভাই, শুক্রবার জামিন পাইছি। আজকে মিছিলে পুলিশ পিটাইছি তাই আপনার ফোন পাইয়া ডরাইছি। 
---কামডা ভালো করেননাই, আপনাকে দেখতে আসলাম আর আপনি বের হয়ে গেলেন........

২৮জানুয়ারী২০১৩

Post Comment

সম্মুখে বদরের প্রান্তর।


সম্মুখে বদরের প্রান্তর, সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনি সময়, আমি কোন শিবিরে যাবো? মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের তাবুতে, নাকি কাফের কুরাইশদের তাবুতে? নাকি রাসূল(সঃ) এর সাহাবা মুজাহীদদের সাথে দীপ্ত কন্ঠে উচ্চারণ করবো তাওহীদের জয়ধ্বনি?
সত্য এবং মিথ্যার ফয়সালা হয়ে যায় জিহাদের ময়দানে, চালুনীর ফাক গলে বেরিয়ে যায় আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের উত্তরসূরীরা।
হে আল্লাহ আমাদের হিম্মত দাও, বুকে দাও ওমরের মত সাহস। সাহাবাদের ঈমানের তেজ কিছুটা হলেও আমাদের দান করো।
আমরা যেন শপথ নিতে পারি, আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্তবিন্দু থাকা অবস্থায় আমাদের আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের গায়ে একটি আঁচর কাটা সম্ভব হবেনা। নেতৃবৃন্দকে মুক্ত না করে ঘরে ফিরে যাবোনা ইনশাআল্লাহ।

৩০জানুয়ারী২০১৩

Post Comment

নারীদের জন্য এরশাদ কাকুর মমতা


নারীদের জন্য এরশাদ কাকুর মনের গহীনে যে অনেক মমতা সেটা আমরা ভালো করেই জানি, তিনি অভাগা নারীদের একটা গতি করার জন্য মাঝে মধ্যেই প্রেম/বিয়ের মাধ্যেম নারী জাতির ভাগ্যর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন।
২০০১সালের নির্বাচনের আগে রংপুরের এক ভিক্ষুককে প্রশ্ন করেছিলাম, কাকু কিসে ভোট দিবেন? তার জবাব "হামারা লাঙলে ভোট দিমু বাহে" ক্যানো এরশাদকে ভোট দিবেননা? "না লাঙ্গলেই দিমু"
এরশাদের নারী কেলেঙ্কারীর কথা উল্লেখ করে, রংপুরের এক রিক্সা চালককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, আচ্ছা আপনারা এরশাদ'কে কেন ভোট দ্যান? তিনি যে এগুলো করছেন ভালো করছেন? রিক্সা চালকের উত্তর ছিলো "রাজা বাদশারা ওগুলা একটু করেই"

৩০জানুয়ারী২০১৩

Post Comment

বিএনপি কে চালায়?


ম্যাডাম জিয়া ঘোশনা দিয়েছেন, ঈদের পরে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতী পুর্নবহালের দাবীতে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মৌদুদ আহমদ গতকাল একটি প্রগ্রামে নতুন সুরে ঘোষণা দিলেন, ‘প্রয়োজনে সেপ্টেম্বর হতে ২৫জানুয়ারী পর্যন্ত কঠোর আন্দোলন পরিচালিত করা হবে’। মাঝখান হতে আগস্ট মাস বাদ!!

প্রশ্ন হচ্ছে, ‘বিএনপি’ দলটি কে চালায়! ম্যাডাম জিয়া, নাকি আওয়ামী এজেন্ট মৌদুদ? কার সিদ্ধান্তে বিএনপি’র মতো একটি জনপ্রিয় দলকে এভাবে জনবিচ্ছিন্ন করে দেয়া হচ্ছে?

ম্যাডাম জিয়া কি বুঝেননা, রাজপথের আন্দোলনে না থাকলে একটা দল তার অস্তিত্ব হারায়?


৪আগস্ট২০১৩

Post Comment

জামায়াতের নতুন নাম এবং অশ্বডিম্ব!


অনেক ভাই দেখছি বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে হাজির হচ্ছেন! জামায়াতে ইসলামী নতুন নামে আবির্ভুত হচ্ছে, দলের নেতৃত্বে আসছে অপেক্ষাকৃত তরূনরা, ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনাদের অবগতির জন্য দুটি ঘটনার উল্লেখ করছি।

এক
২০০১সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে, যখন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ সাহেব মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছিলেন, তখন এক সাথী ভাইয়ের বাসায় ছুটে গিয়েছিলাম। কারণ হচ্ছে, আজকে প্রথমবারের মতো জামায়াত নেতাদের টিভির পর্দায় দেখানো হবে! জামায়াতের নেতাদের চেহারা যখন টিভির পর্দায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাচ্ছিলো গর্বে তখন বুকটা ফুলে উঠেছিলো, আমার নেতাদের টিভিতে দেখাচ্ছে! বাংলাদেশের কোটি জনতা আমার নেতাদের দেখছে! বিশাল ব্যাপার স্যাপার!
জামায়াত বলতে তখন জনগণ শুধুমাত্র অধ্যাপক গোলাম আজম সাহেবকেই চিনতো। অন্য নেতাদের মধ্যে একমাত্র সাঈদী সাহেব ছিলেন পরিচিত মুখ, তাও যতটুকু জামায়াত হিসেবে তার চাইতে বেশি একজন ওয়ায়েজ হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন।

দুই
২০০৪সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত কমিশনার প্রার্থির জন্য ভোট চাইতে গিয়েছিলাম এক বস্তিতে।
বস্তির মুরব্বি প্রশ্ন করছিলেন, ভাই প্রার্থী কোন দলের?
আমি জবাব দিলাম, ‘জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী’
তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, জামায়াতে ইসলামী কোন দল ভাই?
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, শিবিরের নাম শুনছেন?
তিনি আমাকে হতাশ করলেন, ‘না ভাই শুনিনাই!’
বিরক্ত হয়ে জবাব দিলাম, ‘এটা হুজুরদের দল, পারলে একটা ভোট দিয়েন!’

সময় পেরিয়ে গেছে, পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে মিডিয়ার কল্যানে মায়ের কোলের শিশু আব্বা ডাক বলার আগেই জামায়াত-শিবিরের নাম মুখস্ত করে ফেলছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সকল নেতা সহ, ঢাকা মহানগরীর প্রায় সকল নেতা এখন জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছে।
নাম সর্বস্ব একটি রাজনৈতিক দল তার আপোষহীন ভূমিকার কারনে এখন প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ছাত্রসমাজের নিকট ইসলামী ছাত্রশিবির এখন একটি ব্রান্ডের নাম। অনলাইনে শিবির কর্মীরা বুক উচিয়ে ঘোষণা দিচ্ছে আমি শিবির করি!

জামায়াতে ইসলামী এখন শুধুমাত্র জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি রাজনৈতিক শক্তির নাম, একটি ব্রান্ডের নাম! নিজ হাতে এই ব্রান্ড ধ্বংস করা নিশ্চিত ভাবে নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত ভাবেই আমাদের চাইতে অনেক বেশি জ্ঞান ধারণ করেন, সর্বোপরি সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ হয়। জামায়াত কিছুতেই এই ব্রান্ড ধ্বংশ করবেনা, যার লক্ষণ ইতোমধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে নিজের নামে রাজনীতি করবে কিনা, তার ফয়সালা হবে রাজপথে, আদালত প্রাঙ্গনে নয়। তাই ঘরে বসে জামায়াতের জন্য নতুন নামের সন্ধান না করে, ঈদ পরবর্তী কেন্দ্র নির্দেশিত কর্মসূচী বাস্তবায়নে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাপিয় পড়ুন।
বিজয় আমাদের, যদি আমরা মুমিন হই! ইনশাআল্লাহ্‌

৩আগস্ট২০১৩

Post Comment

আপনি আওয়ামিলীগ নাকি মুসলিম?


আপনি আওয়ামীলীগ করেন? হ্যা, আপনাকেই বলছি!

হিন্দুরা বলছে, সকল ক্ষমতার মালিক তাদের দেবতাদের দেবতা ভগবান।
খৃস্টানরা বলছে, সকল ক্ষমতার মালিক ঈশ্বর।
আওয়ামিলীগ বলছে, সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
ইসলামী বলছে, সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ।

এবার একটা প্রশ্নের জবাব দিন, আপনি কোন ধর্মে বিশ্বাসী?
আপনি আওয়ামিলীগ নাকি মুসলিম?

২আগস্ট২০১৩

Post Comment