আমার গালি বেলা----পর্ব-৭

facebook link
facebook link-2

ছোট বেলায় বজ্জাতের হাড়ি ছিলাম, ঘাড়ের রগ একটা সবসময় ত্যাড়া ছিলো, আমি যেটা বলবো সেটা মানতেই হবে। খুব জ্বালাতন করতাম, মুখের ভাষা ছিলো আরো সুন্দর, দুনিয়ার যাবতীয় গালি ছিলো আমার ঠোটস্থ। যেগুলা জানতামনা সেই সব গালি মুখস্ত করার ছিলো প্রবল আকাঙ্খা।

একদিন মা আমাকে কোলে নিয়ে বাড়ির অন্যন্য মহিলাদের সাথে কথা বলছিলেন(একটু বড় হয়েও কোলে চরতাম), মহিলারা একসাথে আড্ডা দিলে যা হয় আর কি, যাবতীয় খুচরা বিষয়ক আলোচনা। মা আক্ষেপ করে বললেন “আমার পাগল পোলাটারে নিয়া কি যে করি, খালি গালি দেয়”। এক মহিলা কয়, “আরে ভাবী আপনার পোলা তাও ভালো আছে, আমার পোলায় যা কইয়া গালি দেয় তা মুখে আনা যায়না” একথা বলেই তিনি চার পাঁচটা গালির শব্দ বললেন। আমি মায়ের কোলে বসে গভীর মনযোগ দিয়ে সেগুলা মুখস্ত করলাম।
ওই দিন বিকাল থেকেই শুরু হলো নতুন গালি প্রাকটিসের পালা। মা তো হতভম্ব পোলায় এগুলা কি কয়!!

নানা বাড়ি আমাদের বাড়ির কাছেই, মামা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশাল নেতা। মামা কখনো আমাদের খালাতো ভাইবোনের গায়ে হাত তুলেছেন বলে জানিনা। আমার গালি শুনে মামা মেজাজ ঠিক রাখতে পারলেননা, হয়তো ভয় দেখানোর জন্য জঙ্গলে নিয়ে গেলেন(নানা বাড়ি বলতে গেলে জঙ্গলের ভিতরেই) দুই হাত জোড় করে বেঁধে, চিকন একটা লাঠি নিয়ে ধমক দিয়ে বললেন “বল আর গালি দিবি?”
এখন মনে পড়লে হাসি পায়, আবার লজ্জাও লাগে, আমার জবাব ছিলো “গাইল্লামু হালারপো হালা” 

পরবর্তীতে সঙ্গ পরিবর্তনের ফলে, আমিও পরিবর্তন হয়ে যাই, গালি একদম সহ্য করতে পারিনা। তবে ঘাড়ের রগ মনে হয় এখনো সোজা হয়নাই। কবে যে সোজা হবে আল্লাহই ভালো জানেন।

এলাকার আর পাঁচটি ভালো ছেলের কাতারে আপনার সন্তানকে দেখতে চাইলে, বিশেষ কিছু করার দরকার নাই। শুধু ওই ভালো ছেলেদের (শিবিরের) সাথে আপনার ছেলেকে পরিচয় করিয়ে দিন। আপনার সন্তানের সামনে তাদের প্রশংসা করুন। বাকিটা আপনার সন্তান নিজেই করবে।

২৮আগস্ট২০১২

Post Comment

No comments:

Post a Comment