বঙ্গবন্ধু বাবুল ও তার কন্যা শেখ হাসিনা।

facebook link

মফিজ সাহেবের একমাত্র ছেলে বাবুল, কট্টর মুজিব ভক্ত। হ্যা আমি শেখ মুজিবের কথাই বলছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাবুল যাই করে বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে করে। পোষাকে আশাকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি, বন্ধুরা সবাই বঙ্গবন্ধু বাবুল বলে খেপায়। বলে, বঙ্গবন্ধুতো তার কন্যা শেখ হাসিনাকে রেখে গেছে উত্তরাধিকারী হিসেবে, আর তুইতো এখনো বিয়েই করতে পারলিনা! হতাশ বঙ্গবন্ধু বাবুল, উদাশ নয়নে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।

চমৎকার দেখতে একটা বিদেশী কুকুর কিনলো বঙ্গবন্ধু বাবুল। সব কাজ কর্ম ফেলে কুকুর নিয়েই তার দিন কাটে, বন্ধুরা সবাই রসিকতা করে বলে,
কিরে বাবুল এমন ভাব করছিস মনে হচ্ছে এটা তোর বাচ্চা!
বাবুল রেগে গিয়ে বলে হ্যা এটা আমার বাচ্চা, তোদের সমস্যা আছে?
বন্ধুরা মুখ টিপে হাসে, যাক এতোদিনে বঙ্গবন্ধু বাবুলের একটা উত্তরাধিকার পাওয়া গেলো,
তা বাচ্চার নাম কি রেখেছিস, “শেখ হাসিনা”? বঙ্গবন্ধুর মেয়ের নামতো এটাই হওয়ার কথা!
বাবুল রাগত কন্ঠে ঝাঝালো স্বরে উত্তর দেয়, হ্যা এটা আমার মেয়ে, আর এটার নাম শেখ হাসিনা। তোরা যাবি এখান থেকে!
সেই থেকে বঙ্গবন্ধু বাবুলের প্রিয় কুকুরের নাম হয়ে গেলো শেখ হাসিনা।

ভালোই কাটছিলো বঙ্গবন্ধু বাবুল ও তার কুকুরের, সারাদিন কুকুর নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায় এখানে সেখানে। একদিন পুলিশের কানে গেলো কুকুরের নাম “শেখ হাসিনা”। পুলিশতো রেগে আগুন, কি এত্ত বড় সাহস! প্রধানমন্ত্রীর নাম দিয়ে কুকুরের নামকরণ! আজকে এর একটা বিহীত করতেই হবে, এই লোককে গ্রেপ্তার করলে প্রমোশন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা, প্রধানমন্ত্রীর সম্মান বলে কথা!

গ্রেপ্তার হয়ে গেলো বঙ্গবন্ধু বাবুল, সাথে তার কুকুর শেখ হাসিনাকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হলো। এলাকার লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, কিরে এমন হাবা-গোবা পোলাডারে পুলিশে নিলো কেনো?
কুত্তার নাম রাখছে শেখ হাসিনা, তাই পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে।
কুত্তার নাম শেখ হাসিনা! হা হা হা, মানুষ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।
মিডিয়াতে খবর আসে, শেখ হাসিনা এবং বাবুল গ্রেপ্তার। জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার? শেখা হাসিনা কি খায়? কোথায় ঘুমায়! এই নিয়ে তাদের টেনশনের সীমা থাকেনা। প্রাণী অধিকার রক্ষা সমিতি আন্দোলনে নামে, শেখ হাসিনার মুক্তি চাই।
টিভি টকশোতে বিশিষ্ট জনেরা কথার খৈ ফুটান, বাবুলের বাবাকে লাইভ কনফারেন্স আনা হলো, দর্শক প্রশ্ন করছে, শেখ হাসিনা আপনার বাসায় ছিলো?
বাবুলের বাবা জবাব দ্যায় হ্যা আমার বাসাতেই ছিলো।
থাকতো কোথায়?
আমার ছেলের সাথেই থাকতো।
শেখ হাসিনা কথা বলতে পারে?
হ্যা সারাক্ষণ শুধু ঘেউ ঘেউ করে।
আরেক দর্শক প্রশ্ন করে শেখ হাসিনা কি খায়?
বাবুলের আব্বা নির্লিপ্ত ভাবে জবাব দেয়, ভাতের ফ্যান খায়, ভাত খায়, মাঝে মাঝে বাথরুমে গিয়ে গু খায়, এটা বন্ধ করতে পারিনাই।

দেশব্যাপী প্রাণী অধিকার সংগঠন গুলো আন্দোলনে সোচ্চার হয়ে উঠে, তাদের হাত হাতে প্লাকার্ড শোভা পাচ্ছে, “আমরা শেখ হাসিনার মুক্তি চাই!” “ঘেউ ঘেউ করার অধিকার, শেখ হাসিনার রয়েছে!”

পুলিশ অফিসারের প্রমোশন হয়েছিলো কিনা জানা নেই, তবে শেখ হাসিনাকে সম্ভবত বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিলো। সে কাহিনী নাহয় আরেকদিন বলা যাবে।


২৭জুন২০১৩

Post Comment

No comments:

Post a Comment