ইসলামী বিপ্লবের ডেডলাইন কি ঘণিয়ে আসছে?


একটা সময় ছিলো আমরা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা স্বপ্ন দেখতাম আগামী ২০বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হব। আমাদের পূর্ববর্তী দায়ীত্বশীলদের কাছে শুনেছি তারাও এমন স্বপ্ন দেখতেন, দেখতে দেখতে বহু ২০বছর অতিক্রম হয়ে গেলো, ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন সেই স্বপ্নই রয়ে গেলো। পরিকল্পনাহীন গতানুগতিক ভাবে চলছেতো চলছেই ভাব নিয়ে একটাই সংগঠন পরিচালিত হলে এমন স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে সেটাই স্বাভাবিক।

প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পরে দূর্বার আন্দোলনের ঘোশনা দিয়েছেন, যদিও অতীতে বহুবার এমন ঘোষণা দিয়েও জনমনে হাস্যরসের সৃস্টি করা ছাড়া আর কিছু উপহার দিতে পারেননাই। তবে এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন, ঈদের পরে আন্দোলন কর্মসূচী গ্রহণ করা না হলে বিএনপি’র অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নাই। অতএব ইচ্ছেয় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবীতে আন্দোলনে বিএনপি’কে আসতেই হবে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, অসাংবিধানীক সরকার প্রতিষ্ঠার চেস্টা করা হলে, আগামী ১০বছরেও নির্বাচন দেয়া হবেনা।

ধরা যাক, ঈদের পরে বিএনপি তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুললো। হেফাজত তাদের ১৩দফা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো রাজপথে এবং জামায়াত নিজস্ব পদ্ধতীতে অবৈধ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বন্ধের দাবীতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো। ফলাফল সরকার পতন ছাড়া বিকল্প নেই, হয় বিরোধীদের দাবী মেনে নিতে হবে, নয়তো সেনাবাহিনী ক্ষমতা কেড়ে নিবে, এর বিকল্প কিছু হতে পারেনা।

আবার অন্যদিকটাও ভেবে দেখা দরকার, ধরা যাক শেখ হাসিনা তার ভারতীয় কানেকশন কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীকে ম্যানেজ করে ফেললো। খালেদার তর্জন গর্জন গলা থেকে ঠোট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ হয়ে রইলো, রাজপথে আলোর মুখ দেখলোনা এবং হেফাজত তাদের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে মাদ্রাসায় বসে বসে জিকির-আসগার নিয়ে মগ্ন থাকলো। এই পরিস্থিতিতে দেশের কি হবে, একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

হোসনি মোবারক স্টাইলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় শেখ হাসিনা ক্ষমতা দখল করে রাখলো, এবং সেটা অবশ্যই ১০বছর কিংবা তারো অধিক সময়ের জন্য। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা এখন পর্যন্ত যারা দল ক্ষমতায় আসবে বলে স্বপ্ন দেখছে তারা হতাশ হয়ে যাবে, অনেকেই রাজনীতি ছেড়া দিবে। বড় বড় ব্যবসায়ী নেতারা যারা বিএনপি’র মন্ত্রী-এম্পি হয়েছিলো তারা সরকারের সাথে আপোশ করে ব্যবসাতে নিমগ্ন হবে, রুট পর্যায়ের নেতারা রাজনীতি বিমুখ হওয়ায় দলে নতুন কর্মী রিক্রুটমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, অস্তিত্ব হারাবে বিএনপি। মাদ্রাসা-গুলোতে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে, আহম্মদ শফীদের মতো বিদগ্ধ আলেমদের সরিয়ে দিয়ে মাওলানা ফরিদ উদ্দীন উবাইদের মাদ্রাসা পরিচালনার দায়ীত্ব দেয়া হবে। জামায়াতের সিনিয়র পর্যায়ের সকল নেতাদের নিশ্চিত ভাবে ফাসি-কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দেয়া হবে। দেশের সর্বময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে বাংলার ফিরাউন শেখ হাসিনা।

এরপরের পরিস্থিতি কিন্তু একটু ভিন্ন, ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াত-শিবির ব্যক্তি নির্ভর দল না হওয়ায় তারা তাদের আন্দোলন বন্ধ করবেনা, আপোষহীন ভাবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণ করবে, সরকার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে। গণভিত্তি রচনা করার জন্য নানামুখি সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজে জড়িয়ে পড়বে। ফলশ্রুতিতে ফাকা মাঠে গোল দিবে জামায়াত, সরকার বিরোধী জনমতের পুরোটাই অর্জন করবে এই দলটি। জনগণের আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তীতে প্রয়োজন হবে একটা তীব্র ঝাকুনী, সেটা অবশ্যই মিশরের তাহরীর স্কয়ারের মোবারক বিরোধী আন্দোলনের অনুরুপ। সৃষ্টি হবে একটি ইসলামী গণবিপ্লব, 'ইসলামীক রিপাব্লিক অব বাংলাদেশ'

আমরা আমাদের নেতাদের হারাতে চাইনা, ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ আলেমেদ্বীনরা ফাসির রশিতে ঝুলবে আর আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো সেটা হতে পারেনা। তারপরেও পজেটিভ-নেগেটিভ দু’টি দিকই আমাদের ভেবে রাখতে হবে। মিশর বিপ্লবের মতো, বিপ্লব যেনো কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সেই প্রস্তুতিও জামায়াতকে অর্জন করতে হবে।


৩০জুলাই২০১৩

Post Comment

No comments:

Post a Comment