মেয়েটি বিয়ের শিকার হইছে

আমরা যারা নিয়মিত খবর পড়ি তারা শিকার শব্দটির সাথে খুব বেশি পরিচিত, যেমন প্রতারণার শিকার, নির্যাতনের শিকার, ধর্শনের শিকার, হত্যাকান্ডের শিকার। অর্থাৎ নেগেটিভ অর্থেই শিকার শব্দটিকে ইউজ করা হয়।
ইদানিং কালে বিয়ের ক্ষেত্রেও শিকার শব্দটি ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়েছে, সেদিন একটি বেসরকারী সংস্থার জড়িপ প্রতিবেদন পড়লাম, সংবাদটির শিরোনাম ছিলো “প্রতিবছর ১৯লাখ মেয়ে বাল্য বিবাহের শিকার”।
উপরের সংবাদটি পড়লে মনে হবে বাল্য বিবাহ একটি জঘন্য ঘটনা, এবং এই ঘটনার মাধ্যমে ওই মেয়েগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

দুইটি কেস স্টাডি বলছি,
এক) ছেলে-মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে, না এটা বাল্যবিবাহ ছিলোনা, সরকারী হিসেবে উপযুক্ত বয়সের বিয়ে। বিয়ের দিন-তারিখ সব ওকে, ছেলেপক্ষ বিয়ের বাজার করে রেডি, এরই মধ্যে ছেলের নম্বরে একটি কল আসলো, কেউ একজন তার সাথে দেখা করতে চায়, অনেক কাহিনী করার পরে হবু-বর দেখা করতে রাজি হলো। দেখাকারী আর কেউ নয়, কনের সাবেক প্রেমিক, একগাদা ডকুমেন্ট নিয়ে হাজির! তারা এরপূর্বে গোপনে বিয়ে করেছিলো।
দুই) বড়যাত্রী বাহি মাইক্রোবাস দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, পেছন থেকে ধাওয়া করেছে একটি মটর সাইকেল, সবাই ভাবছে নিশ্চই ছিনতাইকারী হবে। হঠাৎ গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে একটি ইটের টুকড়ো ঢুকলো গাড়ির ভেতরে, ইটের সাথে বাধা কিছু কাগজপত্র। এই মেয়েরও গোপন বিয়ে হয়েছিলো, সাবেক প্রেমিকের সাথে।

উপরের দুইটি ঘটনার বাহিরেও প্রতিদিনের খবরের কাগজে আমরা নানা রকমের খবর পড়ে থাকি, গতকাল একটি নিউজ পড়লাম কালিয়াকৈড়ে আবাসিক হোটেল হতে ৩৩জোড়া নারী পুরুষ গ্রেপ্তার, তাদের মধ্যে কলেজ ছাত্রীও রয়েছে। এমন ঘটনা এখন অহরহ, আপনার আশেপাশের আবাসিক হোটেলগুলোর দিকে লক্ষ রাখলে বুঝতে পারবেন সেখানে কারা যাতায়াত করে।

একটা সময় ছিলো, আমাদের নানী-দাদীদের বিয়ে হয়েছিলো ১০/১১ বছর বয়সে, কারো কারো তিন-চার বছর বয়সেই। তখন আজকের দিনের মতো এমন টিভি-মোবাইল কিংবা ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছিলোনা, কিংবা ছিলোনা পর্ণভিডিওর মতো উত্তেজক ব্যবস্থা। তাদের চরিত্র এখনকার তরুণ-তরুণীদের চাইতে হাজার গুণ ভালো ছিলো।
কিন্তু আজকের এই ডিজিটাল যুগে বিয়ের বয়স পিছিয়ে দেয়া হলো, মেয়েদের ক্ষেত্রে-১৮ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে-২১। বিয়ের বয়স বাড়িয়ে দেয়া হলেও মানুষের শারিরীক পরিবর্তন কিংবা চাহিদা কিন্তু থামিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নাই, তার উপর এভেইলেভল করা হয়েছে পর্ণোগ্রাফী।
ব্যাপারটি হচ্ছে, আপনাকে দিনের পরে দিন অভুক্ত রেখে আপনার সামনে বিড়ানি রেখে দেয়া হলো, বিরানী কতটা সুস্বাদু সে কথাও বর্ণনা করা হলো। সাথে সতর্কবানী, এটা তোমার খাবার নয়, তুমি যদি এটা খাও তবে তোমার গুনাহ হবে।

এবার আসি পরকীয়া সম্পর্কের দিকে, আজকে যেই ছেলে এবং মেয়েটি স্কুল/কলেজ জীবনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে এবং লিপ্ত হচ্ছে অনৈতিক সম্পর্কে তারা কিন্তু সবাই সবাইকে বিয়ে করতে পারবেনা। ফলশ্রুতিতে যেটা হবে তা হচ্ছে, বিয়ের পরেও কিন্তু অনেকেই তাদের পূর্বের জীবনের প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে, সমাজে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়বে পরিকীয়া এবং বিবাহ বিচ্ছেদ।

কল্পনা করুন, সরকার ঘোশণা দিলো, আজ হতে ১৫বছর বয়স হলেই মেয়ের বাবা-মায়েরা তাদের মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করতে বাধ্য থাকবে। তাহলে সমাজের চিত্রটা কেমন হতো?
পার্কের নিরিবিলি গাছের নিচে কিংবা ছাতার নিচে কোনো অবিবাহিত তরুন-তরুনিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যাবেনা। অন্ধকার চাইনিজ রেষ্ট্রুরেন্টে খুজে পাওয়া যাবেনা, কোনো স্কুল/কলেজ পড়ুয়া প্রেমিক জুটিকে। বন্ধ হয়ে যাবে আবাসিক হোটেলগুলোর রমরমা ডেটিং বাণিজ্য।

সুতরাং সিদ্ধান্ত আপনার, পার্কের ছাতার নিচে কিংবা অন্ধকার চাইনিজ রেষ্ট্রুরেন্টে যেই ছেলে-মেয়েগুলো সময় কাটায় তারা কিন্তু আপনার আমার ছেলে-মেয়ে। বাল্য বিবাহের দোহাই দিয়ে তাদের তুলে দিবেন প্রেমিক পুরুষের হাতে, নাকি সঠিক সময়ে ঘোশণা করবেন শুভ বিবাহের শুভ বার্তা।

২৭অক্টোবর২০১৩

Post Comment

No comments:

Post a Comment