বাতিল শক্তির অপপ্রচার এবং উহাদের ফলাফল


এক
পত্রিকায় বিশাল হেডিং দিয়ে নিউজ আসলো, রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগ ও বাম ছাত্রসংগঠনের কর্মিদের রগ কেটে কেয়ামত বানিয়ে ফেলছে। তারা নাকি ছাত্রলীগের নাক/কান কেটে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলতেছে। পুরো দেশ জুড়ে হই-চই পড়ে গেলো, বিদেশী সাংবাদিকরা আসলেন সরেজমিনে তদন্ত করতে, কিন্তু কোথাকার কি! রগকাটার একটা নজীরও উপস্থাপন করতে পারলোনা মিথ্যাবাদীর দল, তারা লজ্বিত হলো।
কিন্তু ততদিনে দেশের ছাত্রসমাজের কাছে শিবিরের নাম ছড়িয়ে পড়েছে, বাংলাদেশে একটা ছাত্রসংগঠন আছে নাম ছাত্রশিবির, রাজশাহী ইউনিতে তাদের হেব্বি দাপট! সন্ত্রাসীদের নাক-কান কেটে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলা চাট্টিখানি কথা!?
ফলাফলঃ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ রাজশাহী ইউনির ছাত্ররা দলে দলে শিবিরে যোগ দিলো, সন্ত্রাস দমনে শিবিরের বিকল্প নেই!

দুই
কোটালী পাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা মঞ্চের নিচ হতে বিশাল বোমা পাওয়া গেলো, ওজন বাহাত্তর কেজি। বোমা হামলা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো মুফতি হান্নানকে, মিডিয়া প্রচারণা শুরু করলো, মুফতি হান্নান জামায়াত-শিবিরের লোক, জামায়াত শিবির জঙ্গী!!
ফলাফলঃ দূর্দান্ত সাহসী এক ছেলে শিবিরের স্থানীয় অফিসে এসে হাজির!
‘আমি শিবির করবো’।
‘তুমি শিবির করবা, কিন্তু কেনো’?
‘শিবিরের কাছে যে অস্ত্র আছে এই অস্ত্র বাংলাদেশের মিলিটারীর কাছেও নাই(বাহাত্তর কেজী ওজনের বোমা)! ভারতের হাত হতে বাংলাদেশকে বাচাতে হলে শিবিরের বিকল্প আমি কিছু দেখছিনা, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি শিবিরে যোগ দিবো!

তিন
মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারনা, চট্টগ্রাম কলেজ-মহসিন কলেজে শিবিরের অস্ত্রের গুদাম আছে, এই কলেজ দুটিতে শিবিরের জঙ্গিরা সবসময়ই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।
ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজে হামলা করবে, বিশাল প্রস্তুতি। অন্যদিকে কলেজ ছাত্রাবাসে তখন কি এক কারনে শিবিরের জনশক্তি খুবই কম। প্রস্তুতি বলতে কয়েকটা পানির পাইপ আর কিছু পাথর সংগ্রহ
করে ছাত্রাবাসের ছাদে জড়ো করা হলো।
দায়ীত্বশীল একটা চমৎকার সিদ্ধান্ত নিলেন, শিবিরের কর্মীদের নির্দেশ দিলেন পানির পাইপগুলো ছাদের কিনারায় নিয়ে এমন ভাবে এদিক সেদিক মুভ করতে হবে, বাহির হতে দেখলে যেনো মনে হয় বন্দুকের নল ঘুরছে...
এদিকে ছাত্রলীগ আগেই মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছে এখানে শিবিরের অস্ত্রের গুদাম আছে, অন্যদিকে ছাদের উপর পানির পাইপের নড়াচড়া, দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নিতে সময় লাগলোনা, মেশিনগানের নল ভেবে পরিমরি ছুট!

চার
চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির শিবিরগুলো বিড়ালের মতো আদরের বস্তু, ওই ছেলেগুলোর মতো অমায়ীক ছেলে অন্যকোথাও পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না। কিন্তু এই বিড়ালকে হিংস্র বাঘ বানিয়ে ছেড়েছে মিডিয়া, সারক্ষণ নিউজ করছে, চট্টগ্রাম ইউনিতে শিবিরের রণপ্রস্তুতি, বিশাল অস্ত্রের সংগ্রহ ইত্যাদি ইত্যাদি।
ছাত্রলীগ সিদ্ধান্ত নিলো চট্টগ্রাম ইউনিতে তারা সমাবেশ করবে, একদিকে সমাবেশের কার্যক্রম চলছে অন্যদিকে বারবার ডানে বামে তাকাচ্ছে কখন শিবির অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, তীব্র আতঙ্ক সবার মাঝে।
এরই মধ্যে শব্দ হলো ‘ঠুশ!’
কে কোন দিকে, কার গায়ের উপর দিয়ে, দিক-বেদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটছে কারো খবর নেই। পরে দেখা গেলো একটা রিক্সার চাংকা পাঙচার হয়ে গিয়েছে......

পাঁচ
আমার বাসায় পুলিশ অভিযান হলো, পুলিশ একটি সেভিং ব্লেড জব্দ করেছিলো রগ কাটার অস্ত্র হিসেবে, ওটা দিয়ে নাকি আমরা মানুষের রগকাটি!
যাই হোক বাতাসে গুঞ্জন শুনছি, ছাত্রলীগ-যুবলীগের উঠতি পোলাপাইন নাকি আমাকে নিয়ে এখন হেব্বি আতঙ্কে আছে! প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সত্যিই তাদের রগ কেটে দেই কিনা।
শুনে হাসি পাইছে, যে মানুষ জীবনে নিজের হাতে একটা মুরগী জবাই করেনাই, সে কিনা মানুষের রগ কাটবে......

পাঁচ
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চট্টগ্রাম মাহফিল করতে দেয়া হবেনা, ১৪৪ধারা জাড়ি করা হলো। চট্টগ্রামবাসীও সিদ্ধান্তে অনড়, মাহফিল হবেই সেটা যেভাবেই হোক।
পরে মাহফিল হয়েছিলো আউটার স্টেডিয়ামে, মাহফিল নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা নিয়ে প্রতিদিনই পত্রিকার রিপোর্ট হয়েছে, প্রচারণা হয়েছে মাহফিলের। ওই মাহফিলটাই ছিলো চট্টগ্রামের ইতিহাসে সবচাইতে বড় মাহফিল।
গত দুটি বছর ধরে এই আলেমের উপর যেভাবে জুলুম করা হয়েছে এবং আলহামদুলিল্লাহ সাঈদী সাহেবকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়া যেভাবে কভারেজ দিচ্ছে, আমি স্বপ্ন দেখছি গোটা চট্টগ্রামে পা রাখার জায়গা থাকবেনা আল্লামা সাঈদীর মুক্তি পরবর্তী মাহফিলে।
কোরআন প্রেমিক লক্ষ-লক্ষ ছাত্রজনতা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর’ স্লোগানে প্রকম্পিত করবে চট্টগ্রামের রাজপথ।

২৮সেপ্টেম্বর২০১৩

Post Comment

No comments:

Post a Comment