যুগের বেলাল এবং আবু বকর

facebook link

নবম হিজরী, প্রচন্ড গরমে উত্তপ্ত আরবের মরুবালু, চারিদিকে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে তাবুকের অভিযানের, রাসূল (সাঃ) আহ্বান করলেন দান করার জন্য, ওমর রাঃ বেশ কিছু টাকা-পয়সা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর দরবারে হাজির করলেন। রাসুলুল্লাহ সাঃ জিজ্ঞেস করলেন ওমর, পরিবরের জন্য কি রেখে এসেছো? তিঁনি জবাব দিলেন, আমার সমুদয় সম্পদের অর্ধেক রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সমিপে দ্বীনের জন্য হাজির করলাম, আর অর্ধেক পরিবারের জন্য রেখে আসলাম। এরি মধ্যে আবু বকর রাঃ তার ছদকা নিয়ে এসে হাজির। রাসুলুল্লাহ সাঃ জিজ্ঞেস করলেন, আবু বকর, পরিবারের জন্য কি রেখে এসেছো? আবু বকর রাঃ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পরিবারের জন্য আল্লাহ ও তার রাসুলের সন্তুষ্ঠি ছাড়া আর কিছুই রেখে আসি নি! ওমর রাঃ তখন আফসোস করে বললেন, হায়, আমি কখনো আবু বকরের সাথে পাল্লা দিয়ে পারলাম না।

তারো অনেক পূর্বের কথা, হজরত বেলাল (রাঃ) তখন সবেমাত্র ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তিনি ছিলেন কৃতদাশ। দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার কত প্রকার হতে পারে কাফেররা তা দেখিয়ে দিলো, আরবের উত্তপ্ত বালু এবং পাথর কুচির উপর তাকে শুইয়ে রেখে বুকে বসিয়ে দেয়া হতো বিশাল আকৃতির পাথর, গলায় রশি বেঁধে মক্কার শিশুদের হাতে ছেড়ে দেয়া হতো। প্রচন্ড রোধে যখন তিনি মূমূর্ষু হয়ে পড়তেন তখন তাকে বলা হতো তুমি ঈমান ছেড়ে দাও, তিনি শুধু একটি উত্তরই দিতেন আহাদ, আহাদ, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। এতে করে জালিমের নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যেতো। তার এই করুন অবস্থা দেখে হজরত আবু বকর(রা) রাসূল(সাঃ) এর অনুমতি সাপেক্ষে তাকে ক্রয় করে মুক্তি দান করেন। জালিমের জুলুমের হাত থেকে মুক্তি লাভ করেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন।

এটা ছিলো চৌদ্দশত বছর আগের ঘটনা, এখন ২০১৩সাল। বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উপর চলছে স্মরণকালের ভয়াবহতম নির্যাতন। দেশের আনাচে কানাচে যুগের বেলালদের উপর চলছে নির্মম অত্যাচার, রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের অকুতোভয় মুজাহিদের। অসংখ্যভাই অন্ধত্ব বরণ করেছেন রিমান্ড নির্যাতনের ফলে, হাসপাতালে মৃত্যুর পথে পাঞ্জা লড়ছে আমাদের ভাইয়েরা।
ইসলামী আন্দোলনের সিপাহ শালার দেলাওয়ার হোসাইন ভাই এখন কারাবন্দী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক দিন রিমান্ড নির্যাতন চালানো হয়েছে তার উপর। প্লাস দিয়ে চাপ দিয়ে থেতলে দেয়া হয়েছে হাতের আঙুল, ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে কোমড়, শরীরের বিশেষ অঙ্গে দেয়া হয়েছে ইলেক্ট্রিক শক, ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হচ্ছে প্রসাবের সাথে। অমানুষিক অত্যাচারের ফলে তিনি বেশিক্ষণ একভাবে বসতে কিংবা শুয়ে থাকতে পারছেননা, কারাগার থেকে আদালতে আসার পথে তাকে বেশ কয়েকবার শুয়ে এবং বসে কাটাতে হয়, এমনকি কারাগারের ভেতরেও হুইল চেয়ার দিয়ে চলাচল করেন এই টগবগে যুবক। কিন্তু জালিমরা জানেনা জুলুম করে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দমন করা যায়না, বরং এই জুলুমের পথ ধরেই দৃঢ়তর হয়ে মজলুমের ঈমান। কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার ভাই তার মাকে বলেছিলেন মা আমি খাব্বাব খুবাইব(রা)-এর নির্যাতনের কাহিনী পড়েছি, এখন আমি সহ আমার ভাইয়েরা সে পরীক্ষা দিচ্ছি আমার জন্য চিন্তা করনা।
প্রতিরাতে আমরা যখন আলিশান রুমে নরম বিছানায় ঘুমাতে যাই ঠিক সেই সময়টাতে হয়তো দেশের কোনোনা কোনো প্রান্তে পুলিশের হাতে নির্মম রিমান্ড নির্যাতন ভোগ করছে ইসলামী আন্দোলনের কোন এক মুজাহিদ ভাই, হয়তোবা হাসপাতালের বেডে মৃত্যুযন্ত্রনায় ছটফট করছে কোনো মায়ের সন্তান। তারা অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে কোন এক আবুবকরের, আল্লাহর সাহাজ্য নিয়ে যিনি হাজির হবেন মুক্তির রাজপথে।

(ইসলামী ছাত্রশিবিরের কারাবন্দী নেতাকর্মীদের জন্য আইনী সহায়তা এবং অসংখ্য আহত ভাইয়ের সুচিকিৎসা জন্য দেশব্যাপী বিশেষ সহায়তা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগ্রহী ভাইয়েরা সংগঠনের নিকটস্থ দায়িত্বশীলের সাথে যোগাযোগ করে আপনার সহায়তা পৌছে দিন। হয়তো আপনার এই সামান্য আর্থিক কোরবানীর বিনিময়ে মহান রব্বুল আলামীন মুক্তি দিবেন যুগের কোন এক বেলালকে)


১১জুন২০১৩

    Post Comment

    No comments:

    Post a Comment