চেতনা ব্যবসায়ী ও মধ্যযুগীয় মানুষগুলো।

Shamim Reja

অতি প্রাচীনকালে বাংলাদেশ নামক দেশে একটি খণি আবিস্কৃত হলো। এটা কিন্তু হীরা, সোনা কিংবা তেলের খণি নয়, তারচাইতেও অনেক দামী বস্তু পাওয়া যায় ওই খণিতে, এটা হচ্ছে চেতনার খনি। যদিও তাদের পিতা বলেছিলো তিনি চোরের খনি আবিস্কৃত করেছেন, তবে শব্দের বিবর্তনে এটা চেতনার খনি নামেই পরিচিতি লাভ করেছে। 
চেতনা ব্যবসা করে চেতনা ধারীরা বিপুল অর্থ বিত্ত কামাতে লাগলো। কিন্তু সুখতো আর কপালে বেশি দিন স্থায়ী হয়না! চেতনা ব্যবসায়ীরা দেখলো একশ্রেণির মধ্যযুগীয় মানুষ তাদের চেতনা ব্যবসা ধ্বংস করে দিচ্ছে। চেতনা ব্যবসায়ীরা ওই মধ্যযুগীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লো, সমাজের সর্বস্তরের নাস্তিক, চেতনাধারী পতিতা এবং চেতনার গ্রাহকরা সেখানে সমবেত হলো। তাদের জন্য বিরানী এবং নগদ অর্থের ব্যবস্থা করা হলো, দেয়া হলো সুপেয় পানি ও রাতে মনোরম বিছানা, আরো ছিলো বিনোদনের সকল উপকরণ। যুদ্ধ ভালোই চলছিলো, যুদ্ধক্লান্ত স্লোগান সৈনিকদের জন্য চেতনার ডাক্তারদের সংগঠন সেখানে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছিলো। যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে চেতনার সৈনিকরা, মধ্যযুগীয়রা পরাজয়ের সম্মুখিন।
হঠাৎ বিপর্যয় ঘটে গেলো দেশে, ভবন বিধ্বস্ত হয়ে মানুষ নিহত হলো। মধ্যযুগীয়রা ঝাপিয়ে পড়লো আহতদের রক্ত এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানের কাজে। 
জনতা অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে চেতনার চিকিৎসকদের পথ পানে! কিন্তু তারা জানেনা চেতনা ব্যবসায়ীরা মানবতাবাদী, তারা শ্রমিকবাদী নয়। এখানে চেতনা বিক্রি করে মুনাফা হবেনা।
পঙ্গু,আহত,মুমূর্ষদের পাশে চেতনার চিকিৎসকদের খুজে পাওয়া গেলোনা। চেতনার চিকিৎসকরা এখন শাহবাগে লাকীদের সেবায় নিয়োজিত

২৪এপ্রিল২০১৩

Post Comment

No comments:

Post a Comment