তারেক জিয়ার রাজনীতি শিক্ষা

৭৫এর পনেরো আগস্ট যে মহান বিপ্লব সম্পন্ন হয়েছিলো, জন্ম হয়েছিলো এক নতুন বাংলাদেশ। সেই বিপ্লবের নায়কদের ফাসির দন্ড ঘোষণা করা হলো, দন্ড ঘোশণা করেই ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়লো আওয়ামীলীগ। বিএনপি ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ পাঁচটি বছর মামলা ঝুলিয়ে রাখলো। অথচ চাইলেই আপিলের মাধ্যমে জাতীয় বীরদেরকে মুক্ত করে আনা মূহূর্তের ব্যাপার ছিলো।

যে আগস্ট বিপ্লব না হলে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পেতোনা, জন্ম হতোনা বিএনপি নামক কোন দলের, সেই বিপ্লবীরা শেষ পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলো। নির্লিপ্ত ছিলো 'বাংলাদেশ ননসেন্স পার্টি' ওরফে বিএনপি।

বিএনপি হচ্ছে ভদ্র লোকের দল, তবে মাঝে মধ্যে দুই চারটা মুনাফিক বের হয়ে আসে এটাই পার্থক্য। বদরুদ্দোজা চৌধুরী থেকে মান্নান ভূইয়া কেউই এই লিস্টের বাইরে নেই। আর বর্তমানে বিএনপির অবস্থা হচ্ছে “লোম বাছতে কম্বল উজাড়!” হাজার খানেক খোকা আর মওদূদ ঘাপটি মেরে আছে বিএনপি’র আচল তলে।

শুনেছি চার দলীয় জোট আমলে জামায়াতের কাছে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের লিস্ট চাওয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে সেই লিস্টের সবাইকে বাদ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কত বড় বেঈমান হলে এমন কাজ করা সম্ভব।

জামায়াত টিভি চ্যানেল চেয়েছিলো দুইটা, অনুমতি দেয়া হয়েছে ১টার, তাও বহু ঝড়-ঝঞ্চা মোকাবেলা করে এর ওর পায়ে ধরে সেটা আনতে হয়েছে। টিভি দেয়া হয়েছে বিএনপি'র ফালুদেরকে, ফালুরা সেই সব টিভিকে ফালুদা বানিয়ে আওয়ামীলীগকে গিফট করে দিয়েছে। অথচ দেশের ক্রান্তিকালে দুঃসময়ে অন্ধের ষষ্ঠী হয়ে সেই জামায়াতী চ্যনেলই বিএনপির পাশে এসে দাড়িয়েছিলো। বেঈমানের দলের চামচারা তখন আওয়ামীলীগের খাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
মখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের শাসনামলে এক নয়া দিগন্ত যে ভূমিকা পালন করেছিলো গোটা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের রক্ত বিসর্জন দিলেও সেই ঋণ শোধ করা সম্ভব হবেনা।

সেনা প্রধান বানানো হলো, মঈন উদ্দিন আহমদকে। পরীক্ষিত বিএনপি জামায়াত সমর্থক বাদ দিয়ে তারেকের পছন্দ হলো মঈন ইউ আহমদকে। রতনে রতন চিনে শুকুরে চিনে কি সেটা পাঠকরাই ভালো বলতে পারবেন।
পাপের প্রাশ্চিত্ত করলো কোমড় ভাঙা ধোলাই খেয়ে। সেই সাথে এদেশের জনগণের গলায় পরিয়ে দিলো দীর্ঘ গোলামীর শৃঙ্খল।

বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে ধারণ রয়েছে এমন একটা শিশুও বলে দিতে পারবে জামায়াতের সমর্থন ছাড়া সুষ্ঠ নির্বাচনে এদেশে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবেনা। ২০০১সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসলো চার দলীয় জোট সরকার। কক্সবাজারের এক জনসভায় হাজির হয়ে তারেক জিয়া তার ভাঙা ভাঙা কথায় “আপনারা সবাই গরু, ছাগল, হাস, মুরগী......। পালবেন”। স্টাইলে বক্তব্যে ঘোষনা দিলেন, "বিএনপি’তে জামায়াতের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে হবে"।
অথচ জামায়াতের সমর্থন নিয়েই এই তারেক জিয়া ওই মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো। প্রধানমন্ত্রী ছেলে হওয়া ছাড়া আর কি যোগ্যতা আছে এই তারেকের?

বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ছাত্রদলের সমাবেশে তারেক জিয়া আক্ষেপ করে বললেন, আমার জেলার কলেজে আমাকে ঢুকতে হয় শিবিরের অনুমতি নিয়ে। তোমরা ছাত্রদলের ছেলেরা কি করো?!
সেই দিন বেশি দূরে নয় মিস্টার জিয়ার পুত্র! শুধু মাত্র বগুড়া নয়, বাংলাদেশে ঢুকতে হলেও আপনাকে শিবিরের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অপেক্ষা করেন, সময় সন্নিকটে।

বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিএনপি’র তৎপরতায় একটা বিষয় স্পষ্ট সেটা হচ্ছে টাকা আসছে। যে উৎস থেকেই আসুক প্রচুর পরিমানে টাকা আসছে। ইদানিংকার মিছিল সমাবেশে বিএনপি সমর্থকদের উপস্থিতি দেখলেই সেটা আপনার কাছে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
এযাবৎ কালে বিএনপি’র নিবেদিত প্রাণ গুটি কয়েক কর্মীরা জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করে আন্দোলন চালিয়ে গেছে, তাদের জন্য জামিনের ব্যবস্থা করা হয় নাই, আহতদের চিকিৎসা প্রদান করা হয় নাই। এখন ঘোশণা দেয়া হচ্ছে সুসময়ে যারা আন্দোলন করবে তাদের আর্থিক সহায়তা করা হবে।
দলের নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের সাথে কত বড় তামাসা হতে পারে বিএনপির এই ঘোষণা, বিবেকবান মাত্রই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

সরকার পরিবর্তন সন্নিকটে। ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে এটা নিশ্চিত। তারেক জিয়ার চুলকানী শুরু হয়ে গেছে। এতোদিন যারা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে রক্ত ঝড়িয়েছে সেই জামায়াত-শিবিরকে যতটা সম্ভব কোণঠাসা করে রাখতে হবে। আর আলালের ঘরের দুলাল মিস্টার তারেক জিয়া, ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত লাফাতে লাফাতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে পদার্পণ করে ক্ষমতার চেয়ারে দুই পা উঠিয়ে বসবেন!

সাহস থাকলে সিঙ্গাপুর মালয়শিয়াতে ঘোড়াঘুড়ির পরিবর্তে বাংলাদেশে আসুন, জামায়াত শিবিরের মতো করে একটা মিছিলের নেতৃত্ব প্রদান করুন।
সাধারণ মানুষ রক্ত ঝড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরী করে দিবে, আর আপনার মতো লন্ডন পলাতক নেতারা সেই রক্ত পিচ্ছিল পথ মারিয়ে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করবেন? গিয়াস উদ্দিন আল মামুনদের সাথে নিয়ে টাকার পাহাড় গড়ে তুলবেন?! বাহবা আপনারই প্রাপ্য!

মিস্টার তারেক জিয়া, ভুলে গেলে চলবেনা, এই জামায়াত শিবিরই আওয়ামীলীগের মোকাবেলা করেছে, সাতক্ষিরাতে ভারতীয় বাহিনীকে মোকাবেলা করেছে। সমগ্র বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে মোকাবেলা করে উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আপনার চাপা যদি সামলাতে না পারেন, তবে ইসলাম ও দেশ রক্ষার স্বার্থে জামায়াত-শিবির যে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেটা বাস্তবায়ন করা জামায়াতের জন্য অসম্ভব হবেনা।

আপনার ফতোয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শণ করে এদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতি অতীতেও করেছে ভবিষ্যতেও করবে ইনশাআল্লাহ। সাহস থাকলে মোকাবেলা করুন।

লেখাঃ তারেক জিয়ার রাজনীতি শিক্ষা
© শামীম রেজা
০৪/০৯/২০১৪

Post Comment

No comments:

Post a Comment